নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মানি লন্ডারিং কাণ্ডে ধৃত সইদুলের আরও এক সঙ্গীর হদিশ মিলল ফাঁসিদেওয়ায়। অভিযুক্তের নাম মহম্মদ শেখ। রবিবার বিকেলে তুফানডাঙায় অভিযুক্তের বাড়িতে হানা দিয়ে ব্যাঙ্কের বেশকিছু নথি বাজেয়াপ্ত করে দার্জিলিং জেলা পুলিসের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। তবে অভিযুক্ত অধরা। কয়েক মাস আগে সেইও সইদুলের সঙ্গে দুবাইতে পাড়ি দিয়েছিল বলে খবর। মহকুমায় এনিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দার্জিলিং জেলা পুলিসের এসডিপিও (নকশালবাড়ি) নেহা জৈন বলেন, ধৃত মহম্মদ সইদুল ও তপন গোপকে জেরা করেই মহম্মদ শেখের নাম মিলেছে। সে সইদুলের সঙ্গেই সারোগেটেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে ভাড়া দেওয়ার কাজ করত। অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বেশকিছু এটিএম কার্ড, সিমকার্ড সহ ব্যাঙ্কের নথি মিলেছে। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
টানা এক সপ্তাহ ধরে সইদুল ও তপনকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পেয়েছে পুলিস। সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই এদিন বিকেলে সিট হানা দেয় তুফানডাঙিতে। চটহাট বাজার থেকে ওই এলাকার দূরত্ব প্রায় এক কিমি। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দোতলা ওই বাড়িতে অভিযুক্তের শোবার ঘর ও অফিস ঘরে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের বেশকিছু এটিএম কার্ড ও মোবাইল ফোনের সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিস অফিসাররা জানান, সইদুলের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে শেখ অন্যতম। প্রায় ন’মাস আগে সইদুলের কীর্তিকলাপ সম্পর্কে খোঁজ মেলে। ওই সময়ই চটহাটে সইদুলের ডেরায় হানা দেওয়া হয়। তখন শেখকে নিয়ে দুবাইতে পাড়ি দিয়েছিল সইদুল। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তাদের সেই বিদেশ ভ্রমণের ছবিও মিলেছে। সইদুলের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে আগেই। সইদুলের কাছ থেকেই সারোগেটেড অ্যাকাউন্ট খোলার প্রশিক্ষণ নেয় শেখ। সইদুলের সংস্থায় কাজ করার পাশাপাশি সে নিজেও গ্রামবাসীদের টোপ দিয়ে সারোগেটেড অ্যাকাউন্ট খুলত। তা অনলাইন প্রতারণা চক্রের কাছে ভাড়া দিত বলেই মনে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ ঘোষপুকুর থেকে সইদুল ও তপনকে পকাড়াও করে পুলিস। আদালতের নির্দেশে ধৃতরা পুলিস হেফাজতে রয়েছে। আজ, সোমবার ফের ধৃতদের আদালতে তোলা হতে পারে। পুলিস অফিসাররা জানান, শুধু শেখ নয়, সইদুলের গ্যাংয়ে স্থানীয় ও ভিনরাজ্যের আরও কিছু চক্রী রয়েছে বলে খবর। ধৃতদের জেরা করে কিছু নামও মিলেছে। শীঘ্রই বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে তদন্তের জাল গোটানো হবে।