Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে হাজার হাজার কোটির দুর্নীতি, তদন্তে ‘সিট’

‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হবে বুধবার। সোমবার এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য অনলাইন ব্যবস্থাও চালু করে দিল নবান্ন। এই আবহে পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে হাজার হাজার কোটির দুর্নীতি, তদন্তে ‘সিট’
  • ২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হবে বুধবার। সোমবার এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য অনলাইন ব্যবস্থাও চালু করে দিল নবান্ন। এই আবহে পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু অভিযোগ এনেই ক্ষান্ত হননি তিনি! এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের শাস্তি সুনিশ্চিত করতে ডিআইজি সিআইডির নেতৃত্বে ‘সিট’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, অসংখ্য ভুয়ো উপভোক্তার একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের খোঁজ মিলতে শুরু করেছে। এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে বলেই মনে করছেন তিনি। কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও, এই ‘লুটেরা’দের থেকে টাকা উদ্ধারের বিষয়টা সব খতিয়ে দেখার পরই জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মত, এতে দু’-একজন আধিকারিক জড়িত থাকতে পারেন। কিন্তু বাধ্য হয়েই তাঁদের এসব মেনে নিতে হয়েছিল। কলকাতা পুরসভাকে ঢাল করেও ‘অনেক কিছু’ হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। একইসঙ্গে যুবশ্রী, ইমাম ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে বলে তাঁর দাবি। বিধবা ভাতা নিয়ে দুর্নীতির দায়ে এদিনই পশ্চিম মেদিনীপুরে এক পুরুষ ‘উপভোক্তা’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।

Advertisement

এদিন নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘এর আগে আমরা মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের বাসিন্দা রাকিবুল শেখের কথা জেনেছিলাম। যিনি পুরুষ হয়েও গত তিন বছর ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন। এই কেসে অনেক বড়ো পর্দাফাঁস হয়েছে। বহরমপুর পিএস-এর কেস নম্বর ৮৪৩/২০২৬। এখানে এ পর্যন্ত ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে। যেখান থেকে মহিলারা নয়, পুরুষরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিচ্ছে। এটা অনেক বড়ো সংখ্যা হবে। তাই আমরা পুলিশকে তদন্তের গতি বাড়াতে বলেছি।’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট রাকিবুল শেখের। ১৫টি অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী তুহিনার নামে। জনৈক তারিকুল রহমানের নামে মিলেছে ৬টি অ্যাকাউন্ট। এর পাশাপাশি, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ সংক্রান্ত উপভোক্তা যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাঁদেরও এদিন একহাত নেন শুভেন্দু। বলেন, ‘যাঁরা ১২ পাতা, ১৬ পাতা, ১৮ পাতা করছেন, এই রিজেক্টেড নেতা এবং তাঁদের দলের লোকদের বলব, এই সংখ্যাটা (ভুয়ো উপভোক্তা) কত হবে, আমরা জানি না। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা তো পাচ্ছেন, সেই সঙ্গে হাজার হাজার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, যাঁরা মহিলা নন, তাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুট করে চলেছেন। আমরা কাউকে ছাড়ব না। আমি ডিজিপি-কে বলেছি এসআইটি গঠন করতে। এখানে যেহেতু আর্থিক তছরুপের বিষয় জড়িত আছে, তাই মানি লন্ডারিংয়েও এদের মামলা ট্রান্সফার করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।’ 
এসআইআরে বাদ যাওয়া নাম, ভুয়ো উপভোক্তা সহ সব মিলিয়ে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর অন্তত ৩০ লক্ষ ভুয়ো প্রাপক আছেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দুবাবু। তাঁর মতে, এখান থেকে সহজেই দুর্নীতির টাকার অঙ্ক অনুমান করা যায়।

সম্পর্কিত সংবাদ