সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি ও অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ে কর্মরত ঠিকাকর্মীদের হঠাৎ দূরে বদলি করা হচ্ছে। ট্রান্সফারের নামে ষড়যন্ত্র করে কর্মীদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। এমনই অভিযোগ তুলে শুক্রবার তাঁরা এমএসভিপির কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে হাসপাতাল চত্বরে ধরনায় বসেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই ছাঁটাইয়ের চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে এবং সবাইকে রামপুরহাট মেডিকেলেই পুনর্বহাল রাখতে হবে।
তাঁরা জানান, সাফাই কর্মী, ওয়ার্ড বয়, ওয়ার্ড গার্ল ও সিকিউরিটি গার্ড মিলিয়ে মোট ১২৮জন কর্মী বিগত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঠিকাদারের অধীনে এই মেডিকেলে পরিষেবা দিয়ে আসছেন। তাঁদের মাসিক বেতন ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। কর্মীদের অভিযোগ, সম্প্রতি ১২৮জনের মধ্যে প্রায় ৫০জন কর্মীকে ঝাড়গ্রাম, আরামবাগ, ডোমকল, দেবড়া ও পুরুলিয়ার মতো দূরবর্তী জেলায় বদলি করে দেওয়া হয়েছে। ঠিকাকর্মী কর্মী বিকি শেখ, আক্তার আলি ও সুমন মুখোপাধ্যায় বলেন, মাত্র ৯-১০ হাজার টাকা বেতনে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্য জেলায় গিয়ে সংসার চালানো বা থাকা-খাওয়া অসম্ভব। তাছাড়া বদলির জায়গায় গেলে তাঁদের জয়েন করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। আন্দোলনকারীদের দাবি, ট্রান্সফার একটি অছিলা মাত্র। আদতে চক্রান্ত করে তাঁদের কাজ থেকে ছাঁটাই করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কর্মীদের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকা সংস্থার এরিয়া ম্যানেজার সায়োনেশ ঘোষ। তিনি বলেন, এই কর্মীদের পূর্বতন সংস্থা নিয়োগ করেছিল। আমরা দায়িত্বে এসেও তাঁদের কাজে বহাল রেখেছিলাম। তাছাড়া এটি একটি ‘ট্রান্সফারেবল’ চাকরি, যা নিয়োগপত্রেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বদলির স্থানে যোগ দিতে না দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্যত্র যোগদানের ক্ষেত্রে এজেন্সি বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো রকম বাধা বা সমস্যা নেই। এবার দূরবর্তী স্থানে কাজে যোগ দেওয়া নিয়ে কর্মীদের ব্যক্তিগত কী সমস্যা রয়েছে, তা আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়।