Bartaman Logo
২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আড়াই মাস পর খুলল খড়্গপুরের ডাম্পিং গ্রাউন্ড

রাজ্যে পালাবদলের পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল খড়্গপুর পুরসভার একমাত্র ডাম্পিং গ্রাউন্ড। গত ১৩ মে সেই ডাম্পিং গ্রাউন্ড খুলতে গিয়ে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষকে স্থানীয়দের হেনস্তার শিকার হতে হয়।

মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আড়াই মাস পর খুলল খড়্গপুরের ডাম্পিং গ্রাউন্ড
  • ২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: রাজ্যে পালাবদলের পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল খড়্গপুর পুরসভার একমাত্র ডাম্পিং গ্রাউন্ড। গত ১৩ মে সেই ডাম্পিং গ্রাউন্ড খুলতে গিয়ে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষকে স্থানীয়দের হেনস্তার শিকার হতে হয়। তারপর দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস ধরে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয় পুর কর্তৃপক্ষকে। শহরেও জমতে থাকে আবর্জনা। শেষমেশ প্রায় আড়াই মাস পর রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের হস্তক্ষেপে খুলল সেই ডাম্পিং গ্রাউন্ড। শুক্রবার থেকে পুনরায় সেখানে আবর্জনা ফেলা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুর চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ। এজন্য স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন কল্যাণীদেবী। ১৯৫৪ সাল থেকে পথ চলা শুরু করে খড়্গপুর পুরসভা। তবে, সুপ্রাচীন এই পুরসভার স্থায়ী কোনো ডাম্পিং গ্রাউন্ড ছিল না। ২০১৫ সালের পরে প্রাক্তন পুরপ্রধান জহর পাল এবং পরবর্তী সময়ে প্রদীপ সরকারের উদ্যোগে পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন হিরাডিহিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ে তোলার চেষ্টা হয়। তবে, নিজেদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা ভেবে খড়্গপুর গ্রামীণ থানার অধীন ওই এলাকার বাসিন্দারা বারবার বাধা দেন। শেষমেশ প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ২০১৭ সালে ওই জায়গাটি পাঁচিল দিয়ে ঘেরার কাজ শুরু হয়। প্রায় চার একর জায়গার উপর গড়ে ওঠে ডাম্পিং গ্রাউন্ড। পরবর্তী সময়ে সেখানে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও গড়ে ওঠে। বছরখানেক আগে অবশ্য তা বন্ধও হয়ে যায়। বর্তমানে প্রায় ২০-২২ জন অস্থায়ী কর্মী ওই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে কাজ করেন। ডাম্পিং গ্রাউন্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরাও কাজ হারানোর আশঙ্কা করছিলেন।

Advertisement

শনিবার কল্যাণীদেবী বলেন, শহর থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০-২৫ টন আবর্জনা তুলতে হয়। গত ১৩মে থেকে হিরাডিহির ডাম্পিং গ্রাউন্ড বন্ধ থাকার কারণে শহর থেকে অনেকটা দূরে পরিত্যক্ত রামস্বরূপ কারখানার কাছে আবর্জনা ফেলা হচ্ছিল। অসুবিধার কথা আমরা দিলীপবাবুকে জানিয়েছিলাম। গত ২৮ জুলাই শহরের নিকাশি ও দূষণের সমস্যা নিয়ে তিনি আইআইটির ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সেখানে এই বিষয়টি আরও একবার উত্থাপন করা হয়। তারপরই তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন। ২৯ জুলাই পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় যান চেয়ারপার্সন। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার পর ডাম্পিং গ্রাউন্ডের তালা খোলা হয়। শুক্রবার থেকে সেখানে আবর্জনা ফেলার কাজও শুরু হয়েছে। চেয়ারপার্সন জানান, ডাম্পিং গ্রাউন্ড থেকে লোকালয় অনেকটাই দূরে। তবে এটা ঠিক, মাঝেমধ্যেই দুর্গন্ধ ছড়ায়। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পুনরায় চালু হয়ে গেলে আশা করছি সমস্যা মিটবে। এই বিষয়ে মন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে খড়্গপুর আইআইটি পাইলট প্রজেক্ট তৈরি করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ