Bartaman Logo
২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বাগদান’ সেরেই দীঘায় ঘুরতে গিয়েছিল হামিম আর অর্পিতা! জঙ্গি কাণ্ডের তদন্ত

দেশের কয়েকটি মন্দিরে হামলা করাই জয়েশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিমদের টার্গেট ছিল। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করত তার বান্ধবী অর্পিতা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, একসঙ্গে কাজ করার জন্য তারা বাগদান সেরে ফেলেছিল।

‘বাগদান’ সেরেই দীঘায় ঘুরতে  গিয়েছিল হামিম আর অর্পিতা! জঙ্গি কাণ্ডের তদন্ত
  • ২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: দেশের কয়েকটি মন্দিরে হামলা করাই জয়েশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিমদের টার্গেট ছিল। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করত তার বান্ধবী অর্পিতা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, একসঙ্গে কাজ করার জন্য তারা বাগদান সেরে ফেলেছিল। গত বছর দু’জনে দীঘায় ঘুরতে গিয়েছিল। পাশাপাশি ‘ফান্ড’ জোগাড়ের উপর নজর দেয়। সেই টাকাতেই আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরক কেনা হত। এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের সাহজাদ ভাট্টি গ্যাংও তাদের অস্ত্র সরবরাহ করার আশ্বাস দিয়েছিল। পাকিস্তানের আইএসআইয়ের এজেন্ট আবিদ জাট এবং হামিদের সঙ্গে হামিমদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

Advertisement

ধৃত হামিম মণ্ডল সংগঠনে ফুয়েগো নামে পরিচিত ছিল। সে পাকিস্তানি হ্যান্ডলার রানা এবং তার সহযোগীদের নির্দেশমতো কাজ করছিল। হামিমদের তিনটি ‘টাস্ক’ দেওয়া হয়েছিল। তাদের গুপ্তচর নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য বলা হয়। তারজন্য উপযুক্ত যুবকদের নিয়োগ করতে বলা হয়। হানিট্র্যাপের জন্য যুবতিদেরও নিয়োগ করার জন্য বলা হয়। তাদের মগজ ধোলাইয়ের দায়িত্ব হামিমকে দেওয়া হয়েছিল। জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের অর্পিতার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াতেই হামিমের পরিচয় হয়। তাকে সে প্রেমের জালে জড়িয়ে মগজ ধোলাই করে। অর্পিতার কাছে সে প্রায়ই মোটা অঙ্কের টাকা পৌঁছে দিত। ঝাড়খণ্ডের ওই যুবতি বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে ভিডিও তুলত। তার মূল উদ্দেশ্যে ছিল মন্দিরগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় সে নিজেকে কট্টর হিন্দুত্ববাদী পরিচয় দিত। তার আড়ালেই ধর্মীয় স্থানের তথ্য তুলে আনত। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার একাধিক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কয়েকটি ভুয়ো নামেও সে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। হামিম এবং অর্পিতাদের এমন ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরে আতঙ্কে রয়েছেন বর্ধমানের অভিজাত এলাকার বাসিন্দারা। শহরে বসে দেশজুড়ে এমন ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করা হতে পারে বলে তাঁরা কল্পনাও করতে পারেননি। রেনেসাঁর বাসিন্দারা এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। ভাড়াটিয়াদের পরিচয়পত্র যাচাই করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। শনিবার ওই এলাকায় গিয়ে বোঝা যায়, স্থানীয়রা যথেষ্টই উদ্বেগে রয়েছেন। হামিমের এক প্রতিবেশী বলেন, হামিম কারও সঙ্গে কথা বলত না। তার লাইফস্টাইল ছিল ‘হাইপ্রোফাইল’। বিপুল টাকা কীভাবে তার কাছে আসত তা তদন্ত করে দেখা দরকার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ