Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআরের হতাশা ঢাকতেই অতি সক্রিয়তা, তোপ তৃণমূলের

বাংলায় ভোট। এজেন্সি। এবং অতি সক্রিয়তা। গত কয়েক বছরের এটাই চেনা-পরিচিত গেরুয়া ছক। চলতি বছরের সঙ্গে ফারাক একটাই—এসআইআর।

এসআইআরের হতাশা ঢাকতেই অতি সক্রিয়তা, তোপ তৃণমূলের
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় ভোট। এজেন্সি। এবং অতি সক্রিয়তা। গত কয়েক বছরের এটাই চেনা-পরিচিত গেরুয়া ছক। চলতি বছরের সঙ্গে ফারাক একটাই—এসআইআর। বঙ্গ বিজেপির চুনোপুঁটি থেকে রাঘব বোয়াল নেতাদের ভোটার তালিকার এই শুদ্ধকরণ নিয়ে যা আশা-ভরসা ছিল, তার পুরোটাই কি সমাধিস্থ হয়েছে? তৃণমূলের সেটাই দাবি। আর তার প্রমাণ, পাঁচ বছর আগের মামলা নিয়ে ভোটের মুখে মোদি-শাহের এজেন্সির বাড়তি তৎপরতা। 

Advertisement

এসআইআর যতটা ‘মাইলেজ’ দেবে, তা দেয়নি বুঝেই কি হতাশ গেরুয়া বাহিনী? আর সেই হতাশা থেকেই চেনা ছকে এজেন্সি বাণ ছুড়ল কেন্দ্র? এই প্রশ্নেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে আক্রমণ পৌঁছে দিয়েছে তৃণমূল। দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষের তোপ, ‘ভোট চোর এখন ডেটা চোর। পুরোটাই হতাশার বহিঃপ্রকাশ। সংগঠন নেই। এসআইআরও কাজে আসেনি। তাই সরাসরি তৃণমূলের ঘরে হানা দিয়ে রণকৌশল চুরির ষড়যন্ত্র করেছে বিজেপি। তারই ফসল, পাঁচ বছর আগের মামলাকে হিমঘর থেকে টেনে বের করা। হার নিশ্চিত জেনেই মরিয়া হয়ে এজেন্সিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে মোদি-শাহের সরকার। গণতন্ত্র হত্যার জন্য যা ওরা করেই থাকে।’ 
খোলামুখ খনি থেকে বেআইনিভাবে কয়লা উত্তোলন এবং তার পাচার। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করেছিল সিবিআই। মূল অভিযুক্ত ছিল অনুপ মাঝি ওরফে লালা। অভিযোগ ছিল জয়দেব মণ্ডলের বিরুদ্ধেও। ওই মামলার উপর ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর ইডি স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর দায়ের করে। এই এজেন্সির দাবি, শাকম্ভরী গ্রুপ অব কোম্পানিজ-এর সঙ্গেই লালার সিংহভাগ ডিল হয়েছিল। সেই তদন্তে নেমেই কয়লা পাচার মামলায় হাওলা মারফত টাকা লেনদেনের খোঁজ মেলে। তারই ১০ কোটি টাকার সূত্র পাওয়া গিয়েছে তৃণমূল অনুমোদিত স্ট্র্যাটেজিক সংস্থা আইপ্যাকে। তাই এই হানা। তৃণমূলের বক্তব্য, যদি সেটাই হয়ে থাকে, পাঁচ বছর পর তা মনে পড়ল কেন? একমাত্র কারণ ভোট। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও কিন্তু একই সুরে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ইডি-সিবিআই আসলে ভোটের আগে সক্রিয় হয়। তারপর শীতঘুমে চলে যায়।’ যদিও এ বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া, ‘মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে সংবিধানের শপথ নেওয়ার পরেও সরাসরি একটি সরকারি তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী, অনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ভয়ংকর নজির।’ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য, ‘বিজেপি যে ভোটের আগে ইডি-সিবিআইকে কাজে লাগায়, সেটা ফের স্পষ্ট হল। কিন্তু একটা বেসরকারি সংস্থার অফিসে ইডি হানা দিলে মুখ্যমন্ত্রী কেন যাবেন? কেউ এজেন্সিকে রেখে ঢেকে ব্যবহার করে, কেউ প্রকাশ্যে।’
জাতীয় স্তরেও কিন্তু বিরোধী পক্ষ অবশ্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির আক্রমণ, ‘ইভিএম ও ভোটার তালিকায় কারচুপি করে যখন কাজ হয়নি, ইডিকে নামিয়েছে বিজেপি।’ আর সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব সোশ্যাল মিডিয়ায় দু’টি বাক্য লিখেছেন, ‘বাংলায় বিজেপির ভরাডুবি নিশ্চিত। এটাই প্রথম প্রমাণ।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ