Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলায় কমিশনের তুঘলকি! খারিজ মোদির আবাসের নথি-ডোমিসাইলও

‘সরকার অনুমোদিত বাড়ি বা জমির শংসাপত্র এসআইআরের গ্রহণযোগ্য নথি।’ ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি জারি করে এমনটাই জানিয়েছিল কমিশন।

বাংলায় কমিশনের তুঘলকি! খারিজ মোদির আবাসের নথি-ডোমিসাইলও
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘সরকার অনুমোদিত বাড়ি বা জমির শংসাপত্র এসআইআরের গ্রহণযোগ্য নথি।’ ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি জারি করে এমনটাই জানিয়েছিল কমিশন। কিন্তু শুনানি শেষ হওয়ার পর এখন তারাই জানাচ্ছে, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ইন্দিরা আবাস যোজনা ও বাংলার বাড়ি প্রকল্পের নথি গ্রহণযোগ্য হবে না। কমিশনের এহেন তুঘলকি আচরণে স্বাভাবিকভাবেই আরও লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, শুনানি পর্বে জমা পড়া সমস্ত ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বাতিল হতে চলেছে বলেও খবর। ফলে ভোটার ভোগান্তি যে আরও বাড়ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

Advertisement

শুনানি পর্বে ডাক পাওয়া বহু ভোটার মোদি সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ইন্দিরা আবাস যোজনা ও বাংলার বাড়ি প্রকল্পের নথি জমা দিয়েছেন। সেগুলি তাঁদের থেকে গ্রহণও করেছেন শুনানির দায়িত্বে থাকা এইআরওরা। কিন্তু মাঝপথেই বিষয়টি নিয়ে সংশয় তৈরি করে দিয়েছে সিইও দপ্তর। ওই সব নথির বৈধতা রয়েছে কি না জানতে চেয়ে গত ২১ জানুয়ারি দিল্লিতে চিঠি পাঠিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও মনোজ আগরওয়াল। কিন্তু সেই চিঠি পাওয়ার পর তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও কোনো জবাব দেননি জ্ঞানেশ কুমাররা। সোমবার মনোজকে দেওয়া চিঠিতে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ওই দুই প্রকল্পের নথি এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। চিঠির ব্যাখ্যায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছে কমিশন। তারা জানিয়েছে, শীর্ষ আদালত ৯ ফেব্রুয়ারির নির্দেশে বলেছে, এসআইআরের নোটিস যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁরা শুধুমাত্র কমিশনের এসআইআর সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নথিই জমা দিতে পারবেন। কমিশনের ১৯ জানুয়ারির নির্দেশিকাতে উল্লিখিত নথিও (মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড) এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের দেওয়া জমি বা বাড়ির শংসাপত্রের কথা উল্লেখ থাকলেও যেহেতু প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ইন্দিরা আবাস যোজনা বা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আর্থিক সাহায্যের অনুমোদন সংক্রান্ত শংসাপত্রের উল্লেখ নেই, তাই এই নথি গ্রহণ করা যাবে না। কমিশনের এহেন ব্যাখ্যার পরই কমিশন ও বিজেপিকে এক সূত্রে বেঁধে তোপ দেগেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সামাজিক মাধ্যমে তারা লিখেছে, ‘বিজেপি-নির্বাচন কমিশন যে একজোট হয়ে কাজ করেছে, তার আরও একটা প্রমাণ সামনে এল! গত ২১ জানুয়ারি যখন এসব প্রকল্পের নথির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তখনই কি কমিশন অবস্থান স্পষ্ট করতে পারত না? প্রায় এক মাস ধরে কি নাটক করছিল তারা? এরা কি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানবে না?’ ওই পোস্টে তৃণমূলের আরও প্রশ্ন, ‘দেশের অন্য রাজ্যে এক নিয়ম, আর বাংলার বেলায় অন্য নিয়ম কেন? জবাব দিক কমিশন।’
অন্যদিকে, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য নথি কি না, তা নিয়ে আগাগোড়াই বিভ্রান্ত ছিলেন ভোটাররা। ১৯৯৯ সালের রাজ্যের আইন অনুযায়ী, ডোমিসাইল ও স্থায়ী বাসস্থানের শংসাপত্র বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারেন জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, এবং কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টর। এই আইনকে উদ্ধৃত করে জারি করা এক নির্দেশিকায় কমিশন জানিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জারি করা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট এসআইআরের নথি হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু তারপরও শুনানিতে নথি হিসাবে ভোটারদের থেকে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট নেওয়া হয়েছে। আর এখন শুনানি শেষ হওয়ার পর স্ক্রুটিনি পর্বে এসে জমা নেওয়া সেসব ডোমিসাইল সার্টিফিকেটই বাতিল করে দিচ্ছে কমিশন! এই তুঘলকি কারবারের জবাব কে দেবে? প্রশ্ন ভোটারদের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ