Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনায় দুই মৃত্যুতে এসআইআর আতঙ্কের চর্চা

দু’টি মৃত্যু এবং একটি আত্মহত্যার চেষ্টা। তিনটি ঘটনাতেই উঠে এল এসআইআর-এর শুনানি প্রসঙ্গ। পরিবারের দাবি, এসআইআর আতঙ্কেই এই ঘটনা ঘটেছে।

হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনায় দুই মৃত্যুতে এসআইআর আতঙ্কের চর্চা
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া, সংবাদদাতা বসিরহাট ও বনগাঁ: দু’টি মৃত্যু এবং একটি আত্মহত্যার চেষ্টা। তিনটি ঘটনাতেই উঠে এল এসআইআর-এর শুনানি প্রসঙ্গ। পরিবারের দাবি, এসআইআর আতঙ্কেই এই ঘটনা ঘটেছে। 

Advertisement

শুক্রবার শুনানির লাইনে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় হাওড়ায়। বালি-জগাছা ব্লকের কোনা বিডিও অফিসে ঘটনাটি ঘটে। মৃতের নাম মদন ঘোষ (৬৫)। তিনি লিলুয়ার চকপাড়ার বাসিন্দা এবং ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের ২৩৫ নম্বর পার্টের ভোটার। দুপুরে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে ছেলের সঙ্গে এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দিতে কোনা বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন মদনবাবু। ১২টা নাগাদ লাইনে দাঁড়ান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে কোনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাওড়া জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, এসআইআরের শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই বৃদ্ধ মানসিক চাপে ভুগছিলেন। মদনবাবুর ছেলে দীপঙ্কর বলেন, ‘বাবা সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতেন। বাবার মৃত্যুর জন্য কমিশন দায়ী।’ মৃতের বাড়িতে যান ডোমজুড়ের বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ এবং ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তাপস মাইতি। 
হাসনাবাদে এক যুবকের মৃত্যুতেও এসআইআর-এর প্রসঙ্গ উঠে আসছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। নাম  ফিরোজ মোল্লা (৩৮)।
শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে হাসনাবাদের ভেবিয়া এলাকায় ২৩৮ নম্বর বুথে। মৃতের স্ত্রী দাবি করেন, শুনানি থেকে ফেরার পরই আরও ভেঙে পড়েন আমার স্বামী। এরপর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। ৩ জানুয়ারি শুনানি কেন্দ্রে গিয়েও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ভেঙে পড়েন তিনি। শুক্রবার ভোর ৬টা নাগাদ বুকে ব্যথা অনুভব করেন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে  নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ফিরোজে স্ত্রী সেরিনা বিবি বলেন, এসআইআর আতঙ্কেই তার মৃত্যু হয়েছে। 
এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরে এসআইআর আতঙ্কে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক ব্যক্তি। বলাই দাসকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বনগাঁ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। অবস্থা স্থিতিশীল। বৃহস্পতিবার শুনানিতে যোগ দিয়েছিলেন বলাই। শুক্রবার ভোরে নিজের বাড়িতেই তিনি বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে চিন্তিত ছিলেন তিনি। 
বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, বিজেপি এসআইআরের নামে মানুষ মারার কল করেছে। অনেকেই আতঙ্কে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল বলেন, শুনেছি ওই ব্যক্তি পারিবারিক অশান্তির কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ