Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআর: ৬০০ বুথে বিএলএ দিতে পারল না পদ্ম শিবির, কটাক্ষ তৃণমূলের

এই পর্বে বিএলওদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বিএলএ-২ হিসেবে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার কথা।

এসআইআর: ৬০০ বুথে বিএলএ দিতে পারল না পদ্ম শিবির, কটাক্ষ তৃণমূলের
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: জোরকদমে চলছে এসআইআরের কাজ। এই পর্বে বিএলওদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বিএলএ-২ হিসেবে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার কথা। কিন্তু, বারাসত সাংগঠনিক জেলার প্রায় ৬০০টি বুথে দেখা নেই বিজেপি’র বিএলএদের। লোক খুঁজতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খেতে হয়েছে দলীয় নেতৃত্বকে। দলের সংগঠন যে কার্যতদের তলানিতে ঠেকেছে, তা মেনে নিচ্ছেন বিজেপি নেতাদের একাংশ। পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে প্রতিটি মণ্ডলে ক্যাম্প করার কথা। বারাসত সাংগঠনিক জেলায় হাতেগোনা কয়েকটি মণ্ডল ছাড়া আর কোথাও এই ক্যাম্প হয়নি। যেখানে যেখানে ক্যাম্প হয়েছিল, সেখানে সেই অর্থে মানুষের উপস্থিতি নজরে আসেনি বলেও মনে করছে নেতৃত্বদের বড় অংশ। ফলে, বারাসতে এসআইআর বিজেপির ‘গলার কাঁটা’ হবে না তো, এই প্রশ্নই তুলছে ওয়াকিবহাল মহল।

Advertisement

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর গোটা রাজ্যে বিজেপির গতি ক্রমশ শ্লথ হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি বিহারে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণা হতেই ফের বঙ্গ বিজেপির পালে নতুন করে হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। ছাব্বিশে বাংলা দখলের হুংকার দিচ্ছেন বিজেপির ছোট থেকে মাঝারি নেতারা। কিন্তু তাদের সংগঠন যে কার্যত তলানিতে, তা এসআইআরকে ঘিরেই স্পষ্ট। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত সাংগঠনিক জেলায় রয়েছে মোট ১,৯৯২টি বুথ। তার মধ্যে ১,৪২০টি বুথে বিএলএ দিতে পেরেছে বিজেপি। বহু চেষ্টা করেও বাকি ৫৭২টি বুথে বিএলএ খুঁজে পায়নি তারা। শুধু তাই নয়, যে সব বুথে বিএলএ’রা রয়েছেন, তাঁরাও কতটা সক্রিয়, তা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন রয়েছে। সূত্রের খবর, যাঁরা বিএলএ হয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে এলাকার মানুষের তেমন যোগাযোগ নেই। বিধাননগর, দেগঙ্গা ও মধ্যমগ্রামে বিজেপির বিএলএ’র সংখ্যা একেবারে তলানিতে। তবে, বারাসত, হাবড়া ও অশোকনগর কেন্দ্রে বিজেপি সব বুথেই বিএলএ দিতে পেরেছে। কিন্তু তাঁরাও সেই অর্থে সক্রিয় নয় বলে রিপোর্ট গিয়েছে দলীয় নেতৃত্বের কাছে। এদিকে বারাসতে উদ্বাস্তু হিন্দুদের নাগরিকত্বের জন্য জন্য সিএএ ক্যাম্পও কার্যত অদৃশ্য। রাজ্য বিজেপির তরফে প্রতিটি মণ্ডলে অন্তত একটি করে সিএএ ক্যাম্প করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বারাসতে ২৯টি মণ্ডলের মধ্যে ক্যাম্পের সংখ্যা দুই অংক ছুঁতে পারেনি। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক নেতার আক্ষেপ, এসআইআরের ফায়দা দল নিতে পারেনি। এনিয়ে বিজেপির রাজ্যনেতা তাপস মিত্র বলেন, সব বুথেই আমাদের এজেন্ট আছে। তৃণমূল বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। এতে লাভ হবে না। মানুষ বিজেপির সঙ্গেই আছে। এনিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, বিজেপি বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বোঝে না। বারেবারে বাংলার মনীষীদের তারা অপমান করছে। বাংলা বিদ্বেষী বিজেপিকে মানুষ পচ্ছন্দ করে না। প্রতিটি নির্বাচনেই মানুষ ওদের প্রত্যাখ্যান করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ