Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআর আবহেই মাঠপাড়ার শতাধিক পরিবার উধাও, বাংলাদেশি সন্দেহে গুঞ্জন

মধ্যমগ্রাম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাটুলি মাঠপাড়ায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করছিল শতাধিক পরিবার

এসআইআর আবহেই মাঠপাড়ার শতাধিক পরিবার উধাও, বাংলাদেশি সন্দেহে গুঞ্জন
  • ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মধ্যমগ্রাম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাটুলি মাঠপাড়ায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করছিল শতাধিক পরিবার। রাজ্যে এসআইআর আবহে রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছে সেই পরিবারগুলি। এরপর স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি পরিবারগুলি বাংলাদেশি? এদেশে অনুপ্রবেশ করেছিল তারা? স্থানীয় সূত্রে খবর, সপ্তাহখানেক ধরে একে একে এখানকার সব পরিবার উধাও হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ওয়ার্ডেরই অন্য একটি পাড়া থেকে কয়েকদিন আগে চলে গিয়েছে বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি পরিবার। তবে স্থানীয় কাউন্সিলারের দাবি, এঁদের অধিকাংশই সুন্দরবন এলাকার বাসিন্দা। হাতেগোনা কয়েকজন বাংলাদেশি থাকতে পারে। ২০০২ সালের ভোটারা তালিকায় এখানে তাঁদের কারও নাম না থাকার কারণে আতঙ্কে তাঁরা চলে গিয়েছেন।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, যে পরিবারগুলি চলে গিয়েছে, তাদের সদস্যরা নানারকম কাজ করে উপার্জন করতেন। অধিকাংশই প্লাস্টিক কুড়োনোর কাজে যুক্ত ছিলেন। কেউ কেউ দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। পরিচারিকার কাজও নিয়েছিলেন কিছু মহিলা। স্থানীয় এক ব্যক্তির জমি ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন তাঁরা। বাঁশের খুঁটি, বেড়া, ত্রিপল দেওয়া অস্থায়ী ঘর প্রত্যেকের। আগে এই পরিবারগুলি মধ্যমগ্রামের হুমাইপুর এলাকায় থাকত বলে জানা গিয়েছে। গত তিন বছর ধরে পাটুলি মাঠপাড়ায় এসে থাকতে শুরু করেন তাঁরা। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এঁরা সবাই বাংলাদেশ থেকে এসে এখানে বসবাস করতে শুরু করেন। অনেকে আধার, ভোটার কার্ডও বানিয়ে নিয়েছিলেন। ভোটও দিতেন এখানে। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতেই একে একে এলাকা ছেড়েছেন সবাই। 
শনিবার মাঠপাড়ায় গিয়ে দেখা গেল, বাঁশের খুঁটি দেওয়া ঘরের কাঠামোগুলি শূন্য পড়ে রয়েছে। বেড়া বা ত্রিপল কিছুই নেই। স্থানীয় বাসিন্দা গ্লোরিয়া ঘোষ বলেন, ‘এখানে যাঁরা থাকতেন গত তিন বছর ধরে, তাঁরা সবরকম সরকারি সুযোগসুবিধা পেতেন। এসআইআরের ভয়েই চলে গিয়েছেন সবাই।’ আরেক বাসিন্দা মাম্পি বৈদ্য বলেন, ‘এরা আগে হুমাইপুরে ছিল।’ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার জুম্মান আলি বলেন, ‘অধিকাংশই সুন্দরবন এলাকার মানুষ। ওঁদের সমস্ত কাগজপত্র থাকাটাই স্বাভাবিক। ২০০২ সালের এখানকার ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তাঁরা সুন্দরবনে ফিরে গিয়েছেন।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ