Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সুপ্রিম ‘গুঁতো’য় শুনানির ফয়সালা এবার সঙ্গে সঙ্গে, অ্যাডমিট নিয়ে তোড়জোড় শুরু কমিশনে

সুপ্রিম গুঁতোয় এবার রীতিমতো নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন।

সুপ্রিম ‘গুঁতো’য় শুনানির ফয়সালা এবার সঙ্গে সঙ্গে, অ্যাডমিট নিয়ে তোড়জোড় শুরু কমিশনে
  • ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুপ্রিম গুঁতোয় এবার রীতিমতো নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরওদের এখন থেকে সঙ্গে সঙ্গে শুনানির নথি যাচাই করে গোটা প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, শুনানিতে ভোটাররা যে নথি আনবেন, তা সঙ্গে সঙ্গে যাচাই বা ভেরিফিকেশন করে তা আপলোড করতে হবে ইআরওদের। ফেলে রাখা চলবে না। শুধু ইআরওরাই নন, শুনানি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনে এইআরওরাও নথি যাচাই করতে পারবেন বলেও নির্দেশে জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর আগে শুনানির সম্মুখীন হওয়ার পর ভোটাররা নোটিসের সঙ্গে সমস্ত নথি যুক্ত করে এইআরওর সামনে হাজিরা দিতেন। তিনি সেই নথি অরিজিনাল কপির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে তা ইআরওনেটে আপলোড করতেন। এবং ভোটারকে শুনানির নোটিসটি ফেরত দেওয়া হত। কমিশনের নির্দেশ ছিল, এই সমস্ত আপলোড হওয়া নথি যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক বা ডিইওরা। দ্রুত শুনানি শেষ করতেই এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ডিইওরা নথি যাচাই শুরুও করেছেন। জেলায় জেলায় দল গঠন করে এই কাজ চলছে। কিন্তু ভোটারদের বড় অংশের অভিযোগ ছিল, শুনানিতে অংশ নেওয়ার পরও কোনও রসিদ না মেলায় শুনানির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছেন। আদৌ তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবে কি না, তা জানা যাচ্ছে না। উপরন্তু নথি হিসাবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বিতর্ক তো ছিলই।

Advertisement

এবার সুপ্রিম কোর্টের দাওয়াইয়ে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়েছে কমিশন। শুনানির সম্মুখীন হওয়া ভোটারদের ইতিমধ্যেই নথি প্রাপ্তির রসিদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলাগুলিকে। সেইসঙ্গে ইআরওদের বলে দেওয়া হয়েছে, ভোটারদের নথি সঙ্গে সঙ্গে ভেরিফাই করতে হবে। এবং তৎক্ষণাৎ বিষয়টির ফয়সালা করতে হবে। ইআরওদের আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেসব ভোটার ইতিমধ্যেই ‘ম্যাপড’, অর্থাৎ যাঁদের শুনানিতে ডাকার কোনও প্রয়োজন নেই, তাদের নামও আপলোডের কাজ দ্রুত শেষ করে ফেলতে হবে। কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘শুনানি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি মানুষের হয়রানি এড়াতেই এই পদক্ষেপ।’ যদিও বিশেষজ্ঞ মহলের ব্যাখ্যা, সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর একরকম বাধ্য হয়েই এখন ভোটারদের কথা ভাবতে হচ্ছে কমিশনকে। আর তাই, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েও বিজ্ঞপ্তি জারি করতে চলেছে কমিশন। যদিও তা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতো, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি বা সন্দেহজনক ভোটারদের কাছ থেকে এখন কীভাবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা হবে, তা নিয়ে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত গাইডলাইন থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়া শুনানিতে এসে ইতিমধ্যেই যারা অ্যাডমিট জমা দিয়েছেন, তাঁদের চিহ্নিত করতেও জেলাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এসআইআরের কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য মঙ্গলবার আরও ১৬ জন আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিককে স্পেশাল রোল অবজার্ভার হিসাবে নিয়োগ করল কমিশন। এই আধিকারিকরা দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, বীরভূম, কোচবিহার, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও হুগলিতে নিযুক্ত হবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ