সুকান্ত বসু, কলকাতা: এসআইআরের জেরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক হারে বেড়েছে নিম্ন আদালতে প্রথম শ্রেণির হলফনামার কাজ। ফলে স্ট্যাম্প পেপারের চাহিদাও বেড়েছে অস্বাভাবিক। বিশেষ করে দশ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারের চাহিদা তুঙ্গে। আর এই মওকায় বিভিন্ন জেলা ও মহকুমা আদালত এবং রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার তারা বেচছে ৫০-৭০ টাকায়। ওই অন্যায্য চড়া দামে অকেকেই তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারের চাহিদাই বেশি। তাই কোনও কোনও স্ট্যাম্প ভেন্ডারে দুপুর গড়াতেই ওই মূল্যের স্ট্যাম্প পেপার ‘হাওয়া’ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বহু মানুষ ফিরছেন খালি হাতেই। তবে জিনিসটি যাঁদের কাছে ভীষণ জরুরি, তাঁরা শেষমেশ বেশি দামেই ‘ব্ল্যাকে’ কিনছেন।
শুধু কলকাতার ব্যাঙ্কশাল, শিয়ালদহ, বা আলিপুর আদালতই নয়, বিভিন্ন মহকুমা আদালতেও প্রথম শ্রেণির হলফনামার কাজ বেড়ে গিয়েছে। আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, কয়েকমাস আগেও প্রথম শ্রেণির হলফনামার কাজ দৈনিক ৭০-৮০টি হত। সংখ্যাটি এখন দেড়শো থেকে প্রায় দু’শো! ব্যাঙ্কশাল কোর্টের আইনজীবী সংগঠনের কর্তা‑ব্যক্তিদের একাংশের বক্তব্য—নাম, পদবি, বয়স, ঠিকানা ও পিতার নাম সংক্রান্ত সমস্যাতেই ওই হলফনামার প্রয়োজন বেড়েছে। এতদিন এটি কিছু বিশেষ দরকারেই দিতে হত। কিন্তু এসআইআর পর্বে হলফনামার পরিধি বেড়ে গিয়েছে। একই বক্তব্য আলিপুর আদালতের ক্ষেত্রেও। কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার নানা প্রান্তের মানুষ সেখানে গিয়েও প্রথম শ্রেণির হলফনামার মাধ্যমে বিবিধ ত্রুটির সংশোধনী সেরে নিচ্ছেন।
আইনজীবীদের কথায়, পাছে ভবিষ্যতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়, তাই এই সময়োচিত পদক্ষেপ। কলকাতার রবীন্দ্র সরণির বাসিন্দা তাপস সরকার বলেন, ‘আমার বাবার নামের বানান ভুল ছিল। তাই প্রথম শ্রেণির হলফনামা তৈরি করে নিয়ে গিয়েছি।’ কাশীপুর রোডের বাসিন্দা সজল দাস বলেন,‘আমাদের বাড়ির ঠিকানা দুটি নথিতে দু’রকম। তার মধ্যে সঠিকটি চিহ্নিত করতে কোর্টে প্রথম শ্রেণির হলফনামার কাজটি সেরে নিলাম।’