নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আশঙ্কা ছিলই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর আর কোনো উপায় রইল না। অন্তত দু’সপ্তাহ পিছিয়ে যাচ্ছে রাজ্যে এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ। কমিশন সূত্রে এমনটাই খবর।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আশঙ্কা ছিলই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর আর কোনো উপায় রইল না। অন্তত দু’সপ্তাহ পিছিয়ে যাচ্ছে রাজ্যে এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ। কমিশন সূত্রে এমনটাই খবর।
গত সোমবারই এসআইআর নিয়ে একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তার মধ্যে অন্যতম, কমিশন চিহ্নিত লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি বা সন্দেহজনক ভোটারদের তালিকা প্রকাশ। সেইসঙ্গে তাঁদের নথি জমা দিতে অন্তত ১০ দিনের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেটাই এখন কমিশনের কাছে গোদের উপর বিষফোঁড়ার শামিল। কারণ, এমনিতেই লক্ষ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি। শুধু তাই নয়, জেলায় জেলায় এখনও শুনানির নোটিস তৈরির কাজ শেষই করা যায়নি। কয়েক লক্ষ নোটিস তৈরি বাকি। তার মধ্যে এখন ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষের নাম প্রকাশ করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই এই কাজ সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয়। তবে দিল্লির কমিশন থেকে সিইও দপ্তরে নির্দেশ এসেছে, ২৪ জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যেক পঞ্চায়েত, ব্লক ও ওয়ার্ড অফিসে ‘সন্দেহজনক’ ও ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতেই হবে। ওই তালিকা নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ১০ দিনের মধ্যে জানাতে হবে। এর পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো অ্যাডমিট কার্ড নিয়েও বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিয়েছে তারা। জানানো হয়েছে, মাধ্যমিকের শংসাপত্রের পাশাপাশি গ্রহণ করা হবে অ্যাডমিট কার্ডও। অবশ্যই তাতে জন্মের তারিখের উল্লেখ থাকতে হবে। এখানেই শেষ নয়, শুনানির পর প্রাপ্তিস্বীকার করে রসিদ দেওয়ার জন্য ইআরও এবং এইআরওদের নির্দেশও জারি করেছে কমিশন। এছাড়া রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্যও বলেছে কমিশন।
কমিশনের আগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুনানি শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেটাও আগে এক দফা পিছানোর পর (সব প্রক্রিয়াই সাতদিন)। সূত্রের খবর, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আপাতত ১৭ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি শেষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এবং ২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যেও কি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ সম্ভব? এর উত্তর খুঁজতে রীতিমতো সংশয়ে ইআরও থেকে শুনানির কাজে নিযুক্ত আধিকারিকরাই। এইআরওরা বলছেন, কোনো নির্দিষ্ট গাইডলাইন না থাকায় সন্দেহজনক ভোটারদের শুনানিতে এমনিতেই সমস্যা হচ্ছে। দু’সপ্তাহ পিছিয়ে দিলেও কীভাবে সবটা শেষ করা যাবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণে তার প্রভাব পড়বে। কারণ সূচি অনুযায়ী ৫ মে’র মধ্যে রাজ্য বিধানসভায় পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। অন্যথা জারি করতে হবে রাষ্ট্রপতি শাসন। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে যাবে ভোটের তারিখ। যদিও বিশেষজ্ঞ মহলের ব্যাখ্যা, সন্দেহজনক ভোটারদের চিহ্নিত করে শুনানিতে যেভাবে ভোটাদের হেনস্তা করা হচ্ছিল, তার রাস্তা বন্ধ হতে এখন কমিশন নিজেই বিভ্রান্ত। তালিকা প্রকাশ হলে ‘গোপন’ বলে আর কিছু থাকবে না।