নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর খামখেয়ালিপনায় নবতম সংযোজন! এবার অবশ্য তুঘলকি সিদ্ধান্ত নয়, রীতিমতো সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় মিথ্যাচারের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর খামখেয়ালিপনায় নবতম সংযোজন! এবার অবশ্য তুঘলকি সিদ্ধান্ত নয়, রীতিমতো সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় মিথ্যাচারের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।
রাজ্যের এসআইআর নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার প্রথম হলফনামা জমা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর সেখানেই এই ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগ উঠেছে। তাতে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি বা ‘সন্দেহজনক’ ভোটারের তথ্য দিয়ে কমিশন উল্লেখ করেছে, ৬ জন বা তার বেশি সংখ্যক ভোটার একজনকেই বাবা দেখিয়েছেন—এমন ব্যক্তির সংখ্যা ১৩ লক্ষ। তাদের সকলকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কমিশনের দেওয়া আগের তথ্য অনুযায়ী, সংখ্যাটা আরও অন্তত ১০ লক্ষ বেশি। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর কমিশন জানিয়েছিল, ৬ জন বা তার বেশি ভোটার একজনকেই বাবা বলে জানিয়েছেন, এমন সংখ্যা ২৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩০।
সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় কমিশন উল্লেখ করেছে, ২ লক্ষ ৬ হাজার ভোটারের ছয়ের বেশি সন্তান রয়েছে। দশের বেশি সন্তান রয়েছে এমন ব্যক্তির সংখ্যা ৮ হাজার ৬৮২। ৫০ জন এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁদের সন্তান সংখ্যা কুড়ির বেশি! এছাড়াও ১৪ জন ব্যক্তির ৩০ জনের বেশি সন্তান থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে হলফনামায়। শীর্ষ আদালতে পেশ করা এই তথ্যে মোট ১৩ লক্ষ এমন ব্যক্তির উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু খসড়া তালিকা অনুযায়ী কমিশনের তথ্যই বলছে, সংখ্যাটা আরও ১০ লক্ষেরও বেশি। এবিষয়ে অবশ্য কমিশনের কোনো উত্তর নেই। যদিও সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এক্ষেত্রেও ডাহা ফেল কমিশনের এআই ভিত্তিক অ্যাপ। ছ’জনের বেশি সন্তান থাকা ব্যক্তিকে সন্দেহজনক ভোটারের তালিকায় ফেলা হয়েছে বললেও বাস্তবে তা হয়নি। আসলে যেসব ব্যক্তি ৪ সন্তানের বাবা, তাঁদেরকেও সন্দেহজনক ভোটারের এই অংশের তালিকায় চিহ্নিত করেছে এআই। আর সেই সমস্ত ভোটারকে নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। রাজ্যজুড়ে এমন ভূরি ভূরি উদাহরণ রয়েছে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দুই ২৪ পরগনার মতো জেলার বহু ভোটার রয়েছেন, যাঁরা চার সন্তানের পিতা হয়েও সন্দেহজনক ভোটার হিসাবে শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। আর এআই-এর এই ভুল ধামাচাপা দিতেই সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের এই ‘মিথ্যাচার’ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।