নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এ যেন একে একে ‘ঝুলি থেকে বেরচ্ছে বেড়াল’! বাংলার এসআইআর ঘিরে আগাগোড়াই বিতর্কে জড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি ফর্ম-৬ বদল, ইসিআইনেটের গলদ নিয়ে দুই কমিশনারের আপত্তি সামনে আসার পর সেই বিতর্ক স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানলে পরিণত হয়েছে। অসাংবিধানিক কাজকর্মের জেরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে উত্তাল গোটা দেশ। আর এর মধ্যেই জানা গেল, পশ্চিমবঙ্গে কোনো কারণ না দেখিয়েই ৫ লক্ষ ৩৮ হাজার ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে কমিশন।
সাধারণত মৃত, স্থানান্তরিত বা অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে ফর্ম-৭ জমা করা হয়। সাধারণ ভোটার ছাড়াও বুথ লেভেল অফিসার এবং স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টরা (বিএলএ) নাম বাদের জন্য ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেন। তাও দিনে ১০টার বেশি নয়। এছাড়াও কোনো বিএলএ-র তরফে ৩০টির বেশি ফর্ম-৭ জমা পড়লে এইআরও বা ইআরও-দের বাধ্যতামূলকভাবে তা খতিয়ে দেখতে হয়। আর কোনো ভোটেরের বিরুদ্ধে ফর্ম-৭ জমা পড়ার পর জন প্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ পাঠিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। নোটিশের প্রেক্ষিতে হাজিরা দিয়ে উপযুক্ত নথি পেশ করতে হয় সংশ্লিষ্ট ভোটারকে। যদি তিনি তা না পারেন তখনই সেই ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইআরওদের তরফে জমা পড়া ‘অটো জেনারেটের’ ৭ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে বাংলায় ৫ লক্ষ ৩৮ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাদের কোনো কারণ দর্শানো হয়নি বলেও অভিযোগ। কিন্তু আইন বলছে ইআরও-রা নিজে থেকে কোনভাবেই ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেন না। আর এখানেই ঘুরে ফিরে এসেছে কমিশনের সেই বিতর্কিত ওয়েবসাইট ইআরও নেটের প্রসঙ্গ। সূত্রের খবর, ইআরও-দের জমা দেওয়া যে ফর্ম-৭ এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ লোকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তাতে ইআরও-দের ডিজিটাল স্বাক্ষর বা সই ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের নাম জন্যই এই কৌশল করা হয়েছিল বলে জোরাল দাবি বিশেষজ্ঞ মহলের।



