নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জেলায় বিএলও হিসেবে কর্মরত প্রাথমিকের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠল হাওড়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ ঘোষের বিরুদ্ধে। বিজেপির অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, যাঁরা এসআইআরের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের ডেকে বৈঠক করে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে বুধবার নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি। যদিও তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, বুথগুলিতে পর্যাপ্ত বিএলএ দিতে পারেনি বলেই বিজেপির এমন ভিত্তিহীন দাবি।
বিজেপির শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি তথা ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের আহ্বায়ক গোবিন্দ হাজরার অভিযোগ, হাওড়া জেলায় বিএলও’রা নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ করছেন না। দিনে সামান্য কিছু সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির কাজ করে তাঁরা দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন। বিএলও’র দায়িত্ব পাওয়া প্রাথমিকের শিক্ষক-শিক্ষিকারা কোথায় কীভাবে কাজ করবেন, সেই নির্দেশ দিচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ ঘোষ। সেজন্য ডোমজুড়ে বিডিও অফিস ও জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের অফিসে বিএলওদের নিয়ে বৈঠকও করেছেন তিনি। প্রাথমিকের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এদিন নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন গোবিন্দবাবু। তিনি বলেন, ‘দলীয় পদ ব্যবহার করে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান বিএলওদের শাসকদলের পক্ষে কাজ করার জন্য প্রভাবিত করছেন।’
সমস্ত অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাথমিকের চেয়ারম্যান। তাঁর দাবি, প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সঙ্গে বিএলওদের কোনও প্রশাসনিক যোগ নেই। কমিশনের নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের এসআই’রা শিক্ষক নির্বাচন করেছেন। কৃষ্ণবাবু বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করেছে খোদ নির্বাচন কমিশন। এতে আমার কোনও ভূমিকা নেই। আমি নিজেও বিএলও নই। কিংবা কমিশন আমাকে কোনও দায়িত্ব দেয়নি। তাই বিএলওদের উপর প্রভাব খাটানোর প্রশ্ন ওঠে কী করে?’ আগামী দিনে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুললে আইনি পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রাথমিকের চেয়ারম্যান। বিজেপিকে কটাক্ষ করে জেলা তৃণমূলের দাবি, এসআইআরের কাজের জন্য জেলার বুথগুলিতে পর্যাপ্ত বিএলএ দিতে হিমশিম খেয়েছে বিজেপি। এতেই তারা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে যে, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে তারা রাজনৈতিকভাবে কতটা দুর্বল। সেজন্যই কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে মিথ্যা অভিযোগ জানাচ্ছে তারা।