রাহুল চক্রবর্তী. বনগাঁ: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনই টার্গেট। একইসঙ্গে ২০২৯ সালের লক্ষ্যও স্থির করে ফেললেন দেশে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বনগাঁর সভামঞ্চ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর হুংকার— ‘এসআইআরের নাম করে বাংলাকে যদি আঘাত করা হয়, প্রত্যাঘাত কিন্তু পরে অপেক্ষা করছে।’ প্রত্যাঘাতটা ঠিক কী ধরনের হতে পারে, তার একটা আভাসও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমার সঙ্গে খেলতে যেও না! যে খেলা খেলব, সেই খেলায় আমাকে ধরতেও পারবে না, ছুঁতেও পারবে না।’ এসআইআর প্রক্রিয়া এখন মধ্য গগনে। বাংলায় ঠিক কত মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে, প্রতিদিনই সংখ্যাতত্ত্ব দিয়ে নতুন নতুন দাবি করছেন বিজেপি নেতারা। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই মমতা বললেন, ‘এতদিন এসআইআর করার সময় পেলে না। হঠাৎ এখন কেন? আর এসআইআর করতে তিন বছর সময় লাগে। আমি বলিনি এসআইআর করতে হবে না। এসআইআর হোক তিন বছর ধরে। ঘটি-বাটি বিক্রি করে সাহায্য করে দেব। আমরা বলেছি, তুমি একজনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দিতে পারবে না। যাঁরা আগে ভোট দিয়েছেন, বিভিন্ন স্কিমে টাকা পান, যাঁরা এখানে দীর্ঘদিন বসবাস করছেন, তাঁদের তাড়ানোর কোনও অধিকার তোমাদের নেই।’ দৃশ্যত ক্ষুব্ধ ছিলেন বাংলার অগ্নিকন্যা। রোষের সুরেই কেন্দ্রের শাসকদলকে তাঁর আক্রমণ, ‘বিজেপি অফিস থেকে লিস্ট ঠিক করে দেবে, এটা মানা যায় না। নির্বাচন কমিশনের কাজ হচ্ছে নিরপেক্ষ থাকা। কিন্তু তারা বিজেপির কমিশনের মতো কাজ কেন করবে?’
মতুয়া-গড় বনগাঁর মঞ্চ থেকে এদিন মমতা আরও বলেছেন, ‘ভোটের রাজনীতি করি না। ভোট চাইতে আসিনি। মানুষের রাজনীতি করি। কেউ ভয় পাবেন না। আপনাদের তাড়াতে দেব না। তৃণমূল থাকতে, আপনাদের কারও গায়ে হাত দিতে দেব না। জোর করে বাংলাকে দখল করতে দেব না। বিজেপির রক্তচক্ষু মানব না।’ গত কয়েক দিনে বিজেপির কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ—যেনতেন প্রকারে বাংলা দখল করতে চায় গেরুয়া বাহিনী। একইভাবে তৃণমূলেরও অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার এবং বিপুল টাকা খরচের পর এবার নির্বাচন কমিশনকে সহকারী সংস্থা হিসেবে নিয়োগ করেছে কেন্দ্রের শাসকদল। এসআইআরকে ভিত্তি করে বাংলা দখলের স্বপ্ন ফের দেখা শুরু হয়েছে পদ্মবনে। সেই প্রেক্ষিতে মমতার হুংকার, ‘বাংলাকে আঘাত করলে প্রত্যাখ্যাত দেখবে। বিজেপিকে শূন্যে নামিয়ে আনব। তৃণমূল থাকতে বাংলার গায়ে কেউ আঁচড় কাটতে পারবে না। বাংলাকে আঘাত করলে গোটা দেশকে কাঁপিয়ে দেব।’
এসআইআরকে সামনে রেখে বিজেপি যে এনআরসির ছক কষেছে, সে বিষয়ে বাংলার মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। জানিয়েছেন, খসড়া তালিকা বের হওয়ার পর কাগজপত্রের সমস্যা হলে, সরকারের তরফে সবরকম সাহায্য করা হবে। প্রত্যয়ী মমতার কথায়, ‘আমরা ছিলাম, আছি, আমরাই থাকব। আমি বাংলার মানুষের পাহারাদার, আর ওরা হল জমিদার।’ বনগাঁয় মমতার এদিনের সভা এবং চাঁদপাড়া থেকে ঠাকুরনগর পর্যন্ত পদযাত্রার পর তৃণমূল কর্মীরা উচ্ছ্বসিত। মতুয়া-গড়ে নতুন করে লড়াই করার রসদ জুটল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মমতাকে দেখা এবং তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য সীমান্তের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন বনগাঁয়। সভা শেষ করে তারা যেন এই বার্তাটাই নিয়ে গেলেন, দিদি পাশে আছেন, মানুষের পাহারাদার হিসেবে!