Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআর: একদিনে উত্তরবঙ্গে মৃত ৩

এসআইআর: একদিনে উত্তরবঙ্গে মৃত ৩
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি, সংবাদদাতা, দিনহাটা ও হলদিবাড়ি: এসআইআর আতঙ্কে গত চব্বিশ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হল উত্তরবঙ্গে। দু’জন আত্মহত্যা করেছেন। তৃতীয়জন মারা গিয়েছেন হার্ট অ্যাটাকে।

Advertisement

৩১ ডিসেম্বর শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন ফুলবাড়ির মহম্মদ খাদেম (৫৭)। সেখান থেকে এসে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েনে তিনি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছে পরিত্যক্ত পুলিশ কোয়ার্টার থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে ওঁর। অন্যদিকে, ওই একই দিনে শুনানি কেন্দ্রে গিয়েছিলেন উত্তর বড় হলদিবাড়ি পঞ্চায়েতের সর্দারপাড়ার বাসিন্দা মলিন রায় (৫৫)। শুনানি কেন্দ্র থেকে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরিবারের লোকজন হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদিন সকাল ১০টা নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে, স্ত্রীর ম্যাপিংয়ে গণ্ডগোল থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন দিনহাটার ওকরাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ফলিমারি গ্রামের বাসিন্দা গৃহশিক্ষক সুভাষচন্দ্র বর্মন (৪৫)। এদিন ভোরে বাড়ির পাশে একটি গাছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, এসআইআর আতঙ্কেই মৃত্যু হয়েছে। 
ফুলবাড়ির চুনাভাটি ফুটবল মাঠ সংলগ্ন এলাকায় থাকতেন মহম্মদ খাদেম। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতে নাম ছিল না পেশায় গাড়িচালক খাদেমের। তাঁর পরিবারের পাঁচজনের শুনানিতে ডাক পড়ে। সকলেই যান। কিন্তু সেখান থেকে এসেই নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন খাদেম। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি এসে গাড়ির চাবি, মোবাইল রেখে বেরিয়ে যান। সারারাত বাড়ি ফেরেননি। এদিন সকালে বাড়ির কাছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায়।  মৃতের ছেলে মহম্মদ শানু বলেন, বাবা ক’দিন ধরেই চরম আতঙ্কে ছিলেন। দেশছাড়া হওয়ার ভয় পাচ্ছিলেন। এসআইআর আতঙ্কেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। 
অন্যদিকে, গৃহশিক্ষক সুভাষচন্দ্র বর্মনের মৃত্যুতে সিতাই বিধানসভার ওকড়াবাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে উপস্থিত হন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। মঙ্গলবার ভোরে একটি গাছে সুভাষবাবুর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। মধ্যরাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বেরিয়ে ছিলেন তিনি। দীর্ঘসময় ঘরে না ফেরায় পরিবারের লোকেরা খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। এদিন সকালে দেহ উদ্ধার হয়। সুভাষচন্দ্র বর্মনের বাবা শশীকান্ত বর্মন বলেন, বউমার ২০০২ এর ভোটার তালিকায় বাবার নামের পরিবর্তে দাদার নাম রয়েছে। তারপর থেকেই ছেলে চিন্তায় ছিল যদি বউমাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। মঙ্গলবার সকালে মৃত্যু হয় হলদিবাড়ির মলিন রায়ের। তাঁর পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন পেশায় ভ্যান চালক মলিন। শুনানিতেও গিয়েছিলেন। ৩১ ডিসেম্বর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিন সকালে মৃত্যু হয়। মৃতের ছেলে স্বপন রায় জানান, বাবা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছিলেন। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। যাঁরা প্রকৃত ভারতীয় তাঁদের ডাকা হচ্ছে। গ্রামে যাঁরা বাংলাদেশি তাঁদের ডাক পড়ছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ