Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিল্পের কথা গুরুত্ব পেল না মোদির ভাষণে, হতাশ সিঙ্গুর

সাতমন তেল পুড়ল কিন্তু রাধা নাচল কই? প্রধানমন্ত্রীর সিঙ্গুরের সভাকে বাংলায় তথা হুগলিতে শিল্পস্থাপনের বার্তা দেওয়ার সভা বলে বিজেপি প্রচার করেছিল।

শিল্পের কথা গুরুত্ব পেল না মোদির ভাষণে, হতাশ সিঙ্গুর
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিজিৎ চৌধুরী, সিঙ্গুর: সাতমন তেল পুড়ল কিন্তু রাধা নাচল কই? প্রধানমন্ত্রীর সিঙ্গুরের সভাকে বাংলায় তথা হুগলিতে শিল্পস্থাপনের বার্তা দেওয়ার সভা বলে বিজেপি প্রচার করেছিল। রবিবার প্রধানমন্ত্রীকে মঞ্চে বসিয়েই বিজেপির বর্তমান ও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি এবং অন্যান্য নেতারা জানিয়ে দেন, মোদিজি বক্তব্য শুরুই করবেন সিঙ্গুরের জমিতে শিল্পস্থাপনের ঘোষণা দিয়ে। কিন্তু বাস্তবে রবিবার প্রধানমন্ত্রীর ৫০ মিনিটের আত্মপ্রচারমূলক বক্তব্যে সিঙ্গুরের শিল্প জায়গাই পায়নি। একেবারে শেষপর্বে নেহাত বুড়ি ছোঁয়ার মতো করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বেহাল। বিনিয়োগ আনতে সেই শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোদির ওই দুটি লাইন যে বঙ্গবিজেপি এবং মোদিভক্তদের স্বপ্নপূরণ করেনি, তা সভা শেষে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

মোদি এদিন বারবার তাঁর ‘গ্যারান্টি’র কথা উচ্চারণ করেছেন। জয়রামবাটি থেকে ‘অমৃত ভারত’ ট্রেনেরও উদ্বোধন করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপুল উন্নতি হচ্ছে। সার্বিক পরিকাঠমো উন্নয়নের জেরেই দেশ এগিয়ে যাবে। হুগলি তথা দেশের জন্য তাঁর ‘স্বপ্ন’ পৃথিবীর বাজারে ভারতের সবজি, মাছ, আলু, শাড়ি প্রভৃতি ‘ধুম মাচাবে’। কিন্তু কেমন করে? মোদি বলেন, সব সমস্যার একটিই সমাধান বাংলায় ‘প্রকৃত পরিবর্তন’ আনতে হবে। সরাতে হবে তৃণমূলকে।

বস্তুত মোদি এদিন প্রত্যাশিতভাবেই রাজ্য সরকারের তুমুল সমালোচনা করেছেন। রাজ্যে বনাম কেন্দ্রের উন্নয়ন নিয়ে সংখ্যাতত্ত্ব, দেশদ্রোহী তত্ত্ব, এবং সংখ্যালঘুতোষণের মতো বহুচর্চিত তত্ত্ব গুরুত্ব পেয়েছে তাঁর ভাষণে। কিন্তু কেউই শেষপর্যন্ত এটা বুঝতে পারেননি, বাংলার প্রাপ্তির ভাঁড়ারে কী এল? মানুষজন তাই সভা শেষের আগেই মাঠ ছাড়তে শুরু করেন। আর সভা শেষে সংঘ পরিবারের কট্টর সমর্থক টোটোচালক দেবনাথ দাস বলেন, ‘শিল্পের ঘোষণা করা উচিত ছিল। তেমনই বিজেপি কী করবে, প্রয়োজন ছিল সেটাও বলা।’ বাংলার মানুষের প্রাপ্তি কী, এদিন তা স্পষ্ট হয়নি। মোদির সভাকে ঘিরে হুগলি তথা বঙ্গ রাজনীতিতে ‘অক্সিজেন’-এর স্বপ্ন দেখা নেতাদের অন্দরমহল থেকেও সেই আক্ষেপ ধরা পড়েছে। যদিও মুখে সভার ভিড়, মোদিজির হুগলিকে গুরুত্ব দিয়ে ৫০ মিনিটের বক্তব্য, এসবকে হাতিয়ার করে ‘সাফল্য’ দাবি করেছেন নেতৃত্ব। তাতে ভবি কতটা ভুলবে সে প্রশ্ন থাকছেই।

সিঙ্গুরের বিধায়ক বেচারাম মান্না বলেন, ‘অন্যায়ভাবে কৃষকের জমি নিয়ে সভা করে তাঁদের জন্য কী বার্তা দিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী? এদিন অন্তত বাংলার কৃষক তা বুঝতে পারেননি। রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রকল্প রূপায়ণ না-করার অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ বিভিন্ন প্রকল্পে বাংলাকে টাকা বন্ধ করে মানুষকে সমস্যায় ফেলেছেন তিনি। কিন্তু সে-কথা ‘সাধু’ প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেননি।’

সিপিএমের রাজ্য নেতা দেবব্রত ঘোষ বলেন, ‘সিঙ্গুর থেকে ন্যানো কারখানা তাড়াতে তৃণমূলের সঙ্গে সমান অপরাধ বিজেপি-ও করেছিল।’ মোদির এদিনের ‘নীরবতা’ তারই স্বীকারোক্তি। ফলে, নির্বাচনের দামামা বাজালেও ‘পোস্টার বয়’-এর সভা দিয়ে সিঙ্গুরকে ইস্যু করার সুযোগ বিজেপি হাতছাড়া করল কি না, সে প্রশ্নই বেশি প্রাসঙ্গিক হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ