নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মূত্র পরীক্ষার ভুল রিপোর্টের জেরে বিপন্ন হতে বসেছিল এক রোগীর প্রাণ। এনিয়ে অভিযোগ হতেই কড়া পদক্ষেপ করল ওয়েস্টবেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশন। ভুক্তভোগী ব্যক্তি হুগলির সিঙ্গুরের বাসিন্দা। তিনি সিঙ্গুর রেল স্টেশনের কাছেই অবস্থিতি একটি ডায়গনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এপ্রিল মাসের সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই কমিশন ওই পরীক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, ভুক্তভোগী পেশায় শিক্ষক মলয় কুণ্ডলকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছে। ওই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ করতে হুগলির সিএমওএইচকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
এনিয়ে হুগলির সিএমওএইচ মৃগাঙ্কমৌলি কর বলেন, কমিশনের কোনও নির্দেশ এখনও হাতে পাইনি। তা পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তরফে চিত্তরঞ্জন সাউ বলেন, বিষয়টি আমরা জানি। এনিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিক্রিয়া জানাব। মলয়বাবু বলেন, গত এপ্রিল মাসে আমি ওই ক্লিনিক থেকে মূত্র পরীক্ষা করাই। সেখানকার রিপোর্ট অনুসারে আমার কিডনি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বলে দেখা যায়। সেই অনুসারে চিকিৎসকের পরামর্শে আমি ওষুধ খেতে শুরু করি। তারপরে অন্য দু’টি জায়গায় আমি পরীক্ষা করাই। দেখা যায় আমার কিডনিতে কোনও সমস্যাই নেই। ভুল রিপোর্ট দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই বিষয়টি জানিয়েই মামলা করেছিলাম। তাতে ওই ক্লিনিক বন্ধ করা এবং আমাকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুসারে, অভিযোগ পাওয়ার পরে ওই রিপোর্টে যে প্যাথলজিস্টের নাম ছিল, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাতে জানা যায়, ওই ব্যক্তির পরীক্ষার প্রায় দু’বছর আগে তিনি পলিক্লিনিকটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তাঁর সই জাল করার অভিযোগও তিনি তোলেন। এই নিয়ে কমিশন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।