Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অ্যাসিড হানার যন্ত্রণা বুকে নিয়ে জীবনের জয়গান দক্ষিণদাঁড়িতে, নব প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে গোলাঘাটায় ‘ব্রেক-ফেল’

সামনেই বিয়ে। পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে বাড়ির কাছে এটিএমে গিয়েছিলেন তরুণী। ফেরার পথে আচমকা তাঁদের পথ আটকান দুই যুবক। তাঁদের মধ্যে একজন ওই তরুণীর প্রাক্তন প্রেমিক।

অ্যাসিড হানার যন্ত্রণা বুকে নিয়ে  জীবনের জয়গান দক্ষিণদাঁড়িতে, নব প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে গোলাঘাটায় ‘ব্রেক-ফেল’
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ্ত রায়চৌধুরী, কলকাতা: সামনেই বিয়ে। পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে বাড়ির কাছে এটিএমে গিয়েছিলেন তরুণী। ফেরার পথে আচমকা তাঁদের পথ আটকান দুই যুবক। তাঁদের মধ্যে একজন ওই তরুণীর প্রাক্তন প্রেমিক। তিনি বলেন, ‘তুমি আমার না হলে কারও হতে দেব না।’ এরপরেই অ্যাসিড ছুড়ে মারেন। মুখ-শরীর ঝলসে যায় তরুণীর। গত মে মাসে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। এটা একটা উদাহরণ মাত্র। প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্তে ঘটে চলেছে এই জঘন্য অপরাধ। অ্যাসিড আক্রান্তদের জীবনের লড়াইকেই এবার ফুটিয়ে তুলছে দক্ষিণদাঁড়ি ইয়ুথস, ‘দহন’-এর মধ্যে দিয়ে।

Advertisement

শিল্পী অনির্বাণের কথায়, প্রতিদিন নানা অত্যাচারের শিকার হন মেয়েরা। তাদের মধ্যে অন্যতম অ্যাসিড হামলা। যাঁরা এই হামলার শিকার, তাঁরাই দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরবেন নিজেদের যন্ত্রণা, সংগ্রামের কাহিনি। গোটা মণ্ডপটিকে একটি স্টেডিয়ামের চেহারা দিয়েছেন তিনি। সামনে দু’টি গোল মঞ্চ। একটায় থাকবেন অ্যাসিড হামলায় আক্রান্তরা। অপরটিতে সাধারণ মেয়েরা। পুজো-পর্বে ৩০-৩৫ জন মেয়ের জীবন কাহিনির সাক্ষী থাকবে মানুষ। মণ্ডপের পিছনের অর্ধে রয়েছে সুবিশাল গ্যালারি। তার দেওয়ালজুড়ে অপরূপ সব ছবি। উডকাট স্টাইলে আঁকা। সেই দেওয়ালে রয়েছে একের পর এক দরজা। সুন্দর সব ছবির মধ্যে থেকে বেরিয়ে এসে জীবনের জয়গান গাইবেন অ্যাসিড হামলায় আক্রান্তরা। মণ্ডপের মাঝে মাতৃমূর্তি। প্রতিমাতেও রয়েছে অভিনবত্ব। মা দুর্গার মধ্যে থেকেও হেরে না যাওয়া জীবনের গল্প বলবেন এক সাহসিনী। সম্পাদক পার্থ ভার্মার কথায়, ২৫তম বর্ষে বিশেষ কিছু করার ভাবনা ছিলই। শুধুমাত্র ঝাঁ চকচকে প্যান্ডেল বা প্রতিমায় সেই ইচ্ছেটাকে আটকে ফেলতে চাইনি। সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে একটা বিশেষ বার্তা দেবে ‘দহন’।
সামাজিক সচেতনতার বার্তা দিচ্ছে প্রতিবেশী গোলাঘাটা সম্মেলনীও। ৪৭তম বর্ষে তাদের ভাবনা ‘ব্রেক-ফেল’। সম্পাদক শংকর সরকারের মতে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হলে বিবাহবিচ্ছেদ আইনসিদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে তা সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্পর্ক ভাঙার এই প্রবণতায় সমস্যার শিকার হচ্ছে সন্তানরা। সম্পর্কের ভাঙাগড়া ও শিশুমনে তার প্রভাবকেই রূপক অর্থে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী মানস রায়। মণ্ডপের ভিতরে থাকছে বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মডেল। ভালোবাসায় জড়ানো পুরনো বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। পাশে নতুন তৈরি ফ্ল্যাটে ধরছে ফাটল। একটা দেওয়ালে থাকছে বাবা মা ও সন্তানের মুখ। বাবা ও মা বিপরীত দিকে তাকিয়ে। আমাদের দিকে চেয়ে আছে শিশুটি। মূল মণ্ডপের মাঝে ছেলেমেয়েদের মাটির মডেল। সুবিচার চাইছে মা দুর্গার সামনে হাজির তারা। হাতের ছায়ায় হাতে হাত ধরে বেঁধে থাকার বার্তা দেবেন শিল্পী অমর সেন। আলো-ছায়ার পথ ধরে আরও মজবুত হোক প্রতিটা সম্পর্ক, এটাই প্রার্থনা গোলাঘাটাবাসীর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ