Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

করোনার সময় থেকে বন্ধ বলি, পরিবর্তে ওড়ানো হয় পায়রা

কোচবিহারের প্রাচীন পারিবারিক দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম ভট্টাচার্য বাড়ির পুজো। এবার এই পুজো ৩৬১ বছরে পড়বে। আগে এই পুজোয় বলির প্রচলন ছিল।

করোনার সময় থেকে বন্ধ বলি, পরিবর্তে ওড়ানো হয় পায়রা
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারের প্রাচীন পারিবারিক দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম ভট্টাচার্য বাড়ির পুজো। এবার এই পুজো ৩৬১ বছরে পড়বে। আগে এই পুজোয় বলির প্রচলন ছিল। কিন্তু করোনার সময় থেকে আর বলি হয় না। তার বদলে পায়রা উড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও প্রাচীন তালপাতার পুঁথি রয়েছে ভট্টাচার্য বাড়িতে। সেই পুঁথি পড়ে শুরু থেকেই পুজো হয়ে আসছে। 

Advertisement

সুভাষপল্লির ধর্মতলায় রামেন্দ্রভবনে এই পুজো হয়। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই। এখানে দেবী একচালায় পূজিতা হন। বর্তমানে সুভাষপল্লির বাড়িতে ৭৪ বছর ধরে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। মাকে এখানে পুজোর দিনগুলিতে পঞ্চ ব্যাঞ্জন দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়৷ স্থায়ী মন্দিরেই পুজো হয়। পারিবারের প্রাচীন রীতি মেনে এখনও এখানে পুজো হয়। তন্ত্র ধারক তন্ত্র ধারণ করেন। 
ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, সন্ধি পুজোয় একটি করে এবং নবমীতে এক জোড়া পায়রা উড়িয়ে দেওয়া হয়। এই পুজো উপলক্ষ্যে বাইরে থেকে পরিবারের সদস্যরা আসেন। প্রতিপদ থেকে সকলে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। পুজোয় বোয়াল মাছ ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়। এছাড়াও মাছ ভোগ দেওয়া হয়। প্রতিদিন পায়েস পিঠে, চাটনি, পোলাও নিবেদন করা হয় মাকে। কুমোরটুলির প্রতিমা আসে। নিয়ম মেনে জন্মাষ্টমীর দিন এই প্রতিমার বায়না দেওয়া হয়। 
ভট্টাচার্য বাড়ির সদস্য কল্যাণ ভট্টাচার্য বলেন, প্রতিপদে ঘট বসবে। ষষ্ঠীর দিন বেলতলায় পুজো হবে। এরপর সপ্তমী, অষ্টমী, সন্ধি, নবমীর পুজো হবে। আগে বলি প্রথা ছিল। করোনার সময় ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যায় সেই রীতি। এখন বলির পরিবর্তে পায়রা ওড়ানো হয়। তালপাতার পুঁথি দেখে পুজো হয়। এবার আমাদের পুজো ৩৬১ বছর। প্রতিবছর পুজোয় দেবীকে সাজান পারমিতা রায়। 
অধুনা বাংলাদেশের রংপুর জেলার উলিপুর মহকুমার তবকপুর এলাকায় এই পুজোর শুরু হয়েছিল। একচালায় দেবী প্রতিমা বানিয়ে তাতে পুজো করা হয়। দেশ ভাগের আগে বাংলাদেশে ধুমধাম করে এই পুজো হতো। তার জাঁকজমকও ছিল বিরাট। কিন্তু সময় বদলেছে। বর্তমানে এই পরিবারের বহু সদস্য বাইরে থাকেন। কিন্তু পুজোর ক’টা দিন সকলেই বাড়িতে ফিরে আসেন। পারিবারিক এই পুজোয় শামিল হন। প্রাচীন পারিবারিক ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নিয়ম মেনে পুজো করা হয়। আর সমস্ত আত্মীয়স্বজন একসঙ্গে হওয়ার আনন্দ যেমন হয় তেমনই এই পুজোর ভাবগম্ভীর পরিবেশ সকলকে আবিষ্ট করে।  ফাইল চিত্র।

সম্পর্কিত সংবাদ