পরামর্শে যোগ বিশারদ তুষার শীল
পরামর্শে যোগ বিশারদ তুষার শীল
আধুনিক জীবন মানেই রোজকার চাহিদার ক্রমবৃদ্ধি আর মানসিক চাপে জর্জরিত হওয়া। দেখা গিয়েছে, বিশেষ পাঁচটি হরমোন আছে, যেগুলির ক্ষরণ বাড়াতে পারলে তা স্ট্রেস কমিয়ে আমাদের মন ও শরীরকে চাঙ্গা রাখে। গভীর ঘুম হয়। দূর হয় টেনশন করার প্রবণতা।
এই হরমোনগুলি হল, সেরেটোনিন, অক্সিটোসিনস, মেলাটোনিন, গামা-অ্যামিনোবিউটারিক অ্যাসিড এবং এন্ডোর্ফিন। পাঁচ হরমোনকে সক্রিয় করার আসন
ভুজঙ্গাসন: উপুড় হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ুন। দুই হাত বুকের পাশে মাটিতে রাখুন। ফণা তোলা সাপের মতো ধীরে ধীরে মাথা ও বুক উপরের দিকে তুলুন। কনুই সামান্য বাঁকা থাকবে, পুরো শরীর জোর করে তুলবেন না। কাঁধ পিছনে রাখুন। ১৫–৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। এই ব্যায়াম মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। মনকে শান্ত করে। ফলে রিল্যাক্সড হওয়ার অনুভূতি মেলে।
বিপরীতকরণী বা সহজ বিপরীতকরণী: দেওয়ালের কাছে শুয়ে পড়ুন। পা থাক দেওয়ালের দিকে। এবার ধীরে ধীরে কোমর থেকে ভাঁজ করে দেওয়ালের উপর রেখে উপর দিকে অর্থাৎ উঁচুতে তুলতে চেষ্টা করুন। এমনভাবে যেন দু’পা, কোমর-পিঠ উঠে যায়। দু’হাত দিয়ে পারলে নিতম্ব ঠেলে ধরে রাখুন। চোখ বন্ধ রেখে পা উপরে তুলবেন। এই অবস্থায় ১০-১৫ বার লম্বা লম্বা শ্বাস নেওয়া ছাড়া করবেন। এই ব্যায়াম মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায়। মনকে শান্ত করে। ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে। ঘুম ভালো হতে সহায়তা করে। শুধু আসন বা ব্যায়াম নয়। করতে হবে প্রাণায়াম।
শীতলী প্রাণায়াম
বজ্রাসন বা পদ্মাসনে সোজা হয়ে আরাম করে বসুন। এরপর জিহ্বাকে নলের মতো পাকিয়ে মুখের বাইরে বের করবেন। ধীরে ধীরে সেই নল দিয়ে শ্বাস ভিতরে টানবেন। মুখ বন্ধ করে নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়বেন। ৫–১০ বার এই ব্যায়ামের পুনরাবৃত্তি করবেন। এই প্রাণায়াম শরীরের গরম ভাব কমিয়ে দেয় এবং মনকে শান্ত, ঠান্ডা ও স্থির রাখতে সাহায্য করে।
কোনও অসুখ-বিসুখ থাকলে অতি অবশ্যই ব্যায়াম করার আগে একবার চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নেবেন।
লিখেছেন সায়ন্তী সেন