Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

মাতৃমৃত্যুর হার ১০৪ থেকে কমে ৯৪ হল বাংলায়

পশ্চিমবঙ্গে মাতৃমৃত্যুর হার ১০৪ থেকে কমে ৯৪-এ পৌঁছেছে। স্বাস্থ্যকর্তাদের জন্য এ এক স্বস্তির খবর। বিস্তারিত পড়ুন।

মাতৃমৃত্যুর হার ১০৪ থেকে কমে ৯৪ হল বাংলায়
  • ১৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবশেষে কিছুটা স্বস্তি পেলেন স্বাস্থ্যকর্তারা। ভাবী মা এবং তাঁদের পরিবারবর্গের জন্যও সুখবর। পশ্চিমবঙ্গে মাতৃমৃত্যুর হার অনেকটাই কমল। এ বিষয়ে জাতীয় রিপোর্ট হল কেন্দ্রীয় সরকারের স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসআরএস)। কিছুদিন আগে সাম্প্রতিকতম এসআরএস (২০২২-২৪) প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মাতৃমৃত্যুর হার আগের বারের ১০৪ থেকে ১০ পয়েন্ট কমে হয়েছে ৯৪। যদিও জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে আছে বাংলা। প্রতি এক লক্ষ প্রসবে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি মায়েদের মৃত্যুর সংখ্যার নিরিখে মাতৃমৃত্যুর হার ঠিক করা হয়। সাম্প্রতিকতম এসআরএস-এ মাতৃমৃত্যুর জাতীয় হার হল ৮৭।

Advertisement

প্রসঙ্গত, জাতীয় পরিস্থিতির তুলনায় স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণে যে কয়েকটি বিষয়ে  রাজ্যের অবস্থা অত্যন্ত করুণ, তার অন্যতম হল মহিলাদের মধ্যে রক্তাল্পতা, মেয়েদের অ্যানিমিয়া, বাল্যবিবাহ এবং মাতৃমৃত্যুর হার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সবক’টি ক্ষেত্রেই একটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অন্য সমস্যাটি।
পূর্বতন সরকার শেষ দু’-তিন বছরে স্বাস্থ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিল এই মাতৃমৃত্যুর হার নিয়ে। শত শত বৈঠক, কর্তব্যরত ডাক্তার, বিভাগীয় প্রধান এমনকি সুপারদের তলব, শো-কজ করেও সমস্যা সম্পূর্ণ বাগে আনতে পারেনি তারা। ২০২৫ সালে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে স্যালাইন-কাণ্ড সামনে আসার পর রাজ্যে মায়েদের চিকিৎসার বেহাল দশা আরও প্রকাশ্যে চলে আসে। তারপর থেকে শুরু হয় দফায় দফায় অন্তর্তদন্ত। তাতে যে কয়েকটি বিষয় উঠে আসে, তার অন্যতম হল, লোকবলের অভাব, রেফার, আইভিএফ-এর মাধ্যমে সন্তান আসার পর মারাত্মক জটিলতা বৃদ্ধি, কাজের সময়ে সরকারি ডাক্তারদের বেলাগাম প্রাইভেট প্র্যাকটিস এবং রাতে মেডিকেল কলেজগুলিতে সিনিয়র ডাক্তার না থাকা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাতে কলকাতার একাধিক মেডিকেল কলেজ আচমকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। তাঁরও চোখে পড়ে বিষয়টি। তারপরই নয়া সরকার জানায়, রাতে অন কল সিনিয়র ডাক্তার যেমন থাকার, তেমনই থাকবেন। সেই সঙ্গে দু’জন করে শিক্ষক-চিকিৎসককে প্রত্যেক মেডিকেল কলেজে রাতে থাকতেই হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ