সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘার অঘোরকামিনী ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে গড়ে তোলা হবে ৫০ শয্যার আয়ুশ হাসপাতাল। এজন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তরফে ৩ একর জায়গা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এব্যাপারে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে একটি খসড়া তৈরি করে স্বাস্থ্যভবনে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আর্থিক অনুমোদন মিললেই কাজ শুরু হবে। এর আগে আয়ুশ বিভাগের জন্য দপ্তরের আধিকারিকরা প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করেন। বিএমওএইচ শেখ সাব্বির বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বর্হিবিভাগের ভবনের পিছনের অংশে জায়গা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে সেখানেই আয়ুশ হাসপাতাল গড়ে উঠবে। এই হাসপাতাল চালু হলে এখানে দীঘা সহ গোটা এলাকার মানুষ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, অঘোরকামিনী ছিলেন দীঘার রূপকার পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের মাতা। তাঁর স্মৃতিতেই তৎকালীন সময়ে বিধানচন্দ্র দীঘায় গড়ে তুলেছিলেন অঘোরকামিনী হাসপাতাল। পরবর্তীকালে এটি রামনগর-১ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। ওল্ড দীঘা বাসস্ট্যান্ড থেকে হাঁটাপথের দূরত্বে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এলাকার মানুষকে নিরবিছিন্ন পরিষেবা দিয়ে আসছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অঘোরকামিনী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যেহেতু বিধানচন্দ্রের স্মৃতি জড়িয়ে, তাই সম্প্রতি পূর্বতন বিএমওএইচ অমিতকুমার ঘোষের উদ্যোগে এই হাসপাতাল চত্বরে বসেছে বিধানচন্দ্র রায়ের আবক্ষ মূর্তি। এখানে শুধু বহিবির্ভাগ চলে। কাছেই রয়েছে দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতাল। সেখানে বহিবির্ভাগ থাকলেও ভিড় এড়াতে এবং সময় বাঁচাতে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই আসেন অনেকে।
খাদালগোবরা, বিলামুড়িয়া, গঙ্গাধরপুর, জগদীশপুর সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যাপারে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল। এছাড়া ওল্ড দীঘায় বেড়াতে আসা কিংবা হোটেল-লজে থাকা পর্যটকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য অঘোরকামিনী স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই যান। প্রতিদিন গড়ে এখানে ৫০ জনের বেশি মানুষ পরিষেবা নিতে আসেন। সবসময় ভিড় লেগেই থাকে। বর্তমানে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিএমওইচ সহ পাঁচজন চিকিৎসক, পাঁচজন নার্স, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন গ্রুপ-ডি কর্মী সহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা রয়েছেন।
এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বর একসময় আগাছায় ঢেকে যায়। তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। জাতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্য মিশনের আর্থিক সহায়তায় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে ল্যাবরেটরির জন্য ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে। আগামীদিনে সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা সহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারবেন রোগীরা। এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক-নার্সদের কোয়ার্টারগুলি ভগ্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শিবালয় রোডের দিকের অংশে সীমানা প্রাচীর থাকলেও নেহরু মার্কেটের পিছনের দিক ফাঁকা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই ফাঁকা জায়গা ইতিপূর্বে বেদখল হয়ে গিয়েছিল। তা পুনরুদ্ধার করেছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিএমওএইচ বলেন, সব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আয়ুশ হাসপাতাল গড়ে উঠলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্যাম্পাসের খোলনলচে বদলাবে। ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো ঠিক করা হবে।