Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিম জালিয়াতির ধৃতরাই উচ্চ মাধ্যমিকের ভুয়ো প্রশ্ন ফাঁসে!

বাজেয়াপ্ত হয়েছে আড়াই হাজার প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিমকার্ড

সিম জালিয়াতির ধৃতরাই উচ্চ মাধ্যমিকের ভুয়ো প্রশ্ন ফাঁসে!
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: যাঁদের নথি ব্যবহার করা হচ্ছে, তাঁরা জানেনই না! অথচ, সেই নথি দিয়ে হাজার হাজার প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিমকার্ড তুলছে সাইবার প্রতারণার বড় চক্র। সম্প্রতি পুরুলিয়া ও মুর্শিদাবাদ থেকে সিম জালিয়াতি চক্রের দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা। বাজেয়াপ্ত হয়েছে আড়াই হাজার প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিমকার্ড। আর তারপরই নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। কারণ ধৃতদের জেরা করে পুলিস জানতে পেরেছে, উচ্চ মাধ্যমিকের ভুয়ো প্রশ্নপত্র ফাঁসে ওই দু’জনই প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিমকার্ড সরবরাহ করেছিল। সেই সিম ব্যবহার করে খোলা হয়েছিল একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। তার মাধ্যমে ভুয়ো প্রশ্নের পিডিএফ বিক্রির টোপ দিয়ে টাকার লেনদেনও করেছিল প্রতারকরা।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিকের বাংলা ও ইংরেজি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গিয়েছে বলে একটি ভুয়ো ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট হয়েছিল। তারপর গত ৬ মার্চ একইভাবে পদার্থ বিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলেও ভুয়ো ভিডিও ফেসবুকে ছড়ানো হয়। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে পদার্থ বিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রের (ভুয়ো) পিডিএফ পাওয়া যাচ্ছে বলে ফাঁদ পাতে প্রতারকরা। প্রচার একটাই—টাকা ফেলো, মিলবে পিডিএফ! পরদিন, অর্থাৎ ৭ মার্চ পদার্থ বিজ্ঞানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস না হলেও ঝুঁকি নেয়নি প্রশাসন। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিক ওইদিনই বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাতেই ফেসবুকে পোস্ট করা ওই ভুয়ো ভিডিও এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে ভুয়ো প্রশ্নপত্রের পিডিএফ প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন তিনি। মূলত, শিক্ষা সংসদ ও রাজ্য সরকারকে বদনাম করতেই ওই ধরনের ভুয়ো ভিডিও ছড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা এফআইআর রুজু করে তদন্তে নামে। গোয়েন্দা দপ্তরও খোঁজখবর শুরু করে। দু’দিন আগে পুলিস শ্রীমন্ত গড়াই নামে সিম জালিয়াতি চক্রের একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তাকে জেরা করে আলফাজ শেখ নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাজেয়াপ্ত হয় আড়াই হাজার প্রি-অ্যাক্টিটেভেড সিমকার্ড। ওই সিমগুলি বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী কোম্পানির। তার কাছ থেকে ৬৫টি মোবাইলও উদ্ধার করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সবগুলিই পুরনো দিনের কি-প্যাড মোবাইল। ধৃত শ্রীমন্তের বাড়ি পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর থানার মুনসেফডাঙায়। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার মির্জাপুরে আলফাজের বাড়ি। তারপরই সামনে আসে উচ্চ মাধ্যমিকের ভুয়ো প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে এই চক্রের যোগ। তবে পুলিস জেনেছে, এই চক্রে আরও লোকজন যুক্ত রয়েছে। তাদের খোঁজ চলছে।
পুলিস জানিয়েছে, দু’ভাবে প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিমকার্ড নিয়ে জালিয়াতি চলছে। নতুন সিমকার্ড তুলতে গেলে বায়োমেট্রিক দিতে হয়। জালিয়াতরা গ্রাহকদের বায়োমেট্রিক নেওয়ার পর বলে, ‘টেকনিক্যাল সমস্যা, তাই বায়োমেট্রিক হচ্ছে না।’ গ্রাহক চলে যাওয়ার পরই তাঁর ডেটা নিয়ে সিমকার্ড উঠে যাচ্ছে। আবার কখনও গ্রাহকের একবার বায়োমেট্রিক নেওয়ার পর বলছে, ‘হয়নি। আর একবার দিন।’ দ্বিতীয় ডেটা নিয়ে সিমকার্ড তুলে নিচ্ছে প্রতারক। এই ধরনের সিমকার্ডই চলে যাচ্ছে সাইবার প্রতারকদের হাতে! যার অন্যতম সাপ্লায়ার শ্রীমন্ত ও আলফাজ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ