Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চোরাই ফোনের অ্যাপ ব্যবহার করে অপরাধ, রাশ টানবে ‘সিম বাইন্ডিং’, গতি আসবে সাইবার জালিয়াতির তদন্তেও

মোবাইল চুরির পর সিম বদলে গ্রাহকের হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক বা অন্যান্য কমিউনিকেশন অ্যাপ ব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধ হয়।

চোরাই ফোনের অ্যাপ ব্যবহার করে অপরাধ, রাশ টানবে ‘সিম বাইন্ডিং’, গতি আসবে সাইবার জালিয়াতির তদন্তেও
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মোবাইল চুরির পর সিম বদলে গ্রাহকের হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক বা অন্যান্য কমিউনিকেশন অ্যাপ ব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধ হয়। এই ধরনের অপরাধে এবার লাগাম পরানোর উদ্যোগ নেওয়া হল। রাজ্যে চালু হতে চলেছে ‘সিম বাইন্ডিং’ প্রযুক্তি। ফলে খোয়া যাওয়া মোবাইলের মালিকের কমিউনিকেশেন অ্যাপ অন্য সিম ঢুকিয়ে বা সিম ক্লোন করে চালানো যাবে না। মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে ‘সিম বাইন্ডিং’ প্রযুক্তির আওতায় আনা হচ্ছে। কেউ তা অগ্রাহ্য করছে কি না, পুলিশকে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পদক্ষেপ করবে পুলিশ।

Advertisement

সাইবার জালিয়াতি বা বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অপরাধীরা অন্যের হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো কমিউনিকেশন অ্যাপ ব্যবহার করছে। সেই জন্য তারা রীতিমতো পরিকল্পনা করে চোরাই ফোন কিনছে, যাতে ব্যবহারকারীর ‘ইনস্টল’ করা অ্যাপগুলি স্রেফ ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েই ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন ওয়াই-ফাই জোনকে কাজে লাগাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে আবার নতুন সিম ঢুকিয়ে অ্যাপগুলি চালানোর উদাহরণও রয়েছে। এভাবে প্রকৃত গ্রাহকের ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে হুমকি ফোন বা জালিয়াতির বিভিন্ন মেসেজ পাঠায় সাইবার প্রতারকরা। এমনকি, বিনিয়োগের টোপ দিয়ে এই সমস্ত কমিউনিকেশন গ্রুপে যুক্ত করা হয় সাধারণ মানুষকে। এভাবেই অন্যের কমিউনিকেশন অ্যাপ ব্যবহার করে  চলে প্রতারণা। খুনের ষড়যন্ত্র বা ‘সুপারি’ দেওয়ার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে অন্যের কমিউনিকেশেন অ্যাপ ব্যবহার করে। তদন্তে নেমে পুলিশ পৌঁছে যায় হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক প্রোফাইলটির আসল মালিকের কাছে। অপরাধ না করেও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয় প্রোফাইলের মালিককে। অহেতুক হেনস্তাও হতে হয় কখনও কখনও। সেই কারণে ‘সিম বাইন্ডিং’ প্রযুক্তি এত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে বলে জানালেন এক পুলিশকর্তা।

ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সমস্ত রাজ্যের পুলিশকে লিখিত নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। এই প্রযুক্তিতে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক , ইনস্টাগ্রাম সহ যে কোনও কমিউনিকেশেন অ্যাপ খুলতে গেলে সংশ্লিষ্ট নম্বরের সিমটি ‘রেজিস্টার্ড’ হবে অ্যাপগুলিতে । সিম খুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে সমস্ত অ্যাপ। হ্যান্ডসেটে নতুন সিম ঢুকিয়েও অ্যাপগুলি আর ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি, ক্লোন সিম ঢুকিয়ে তা আর সক্রিয় করা যাবে না। ফলে চোরাই ফোন কিনে আসল মালিকের অ্যাপ ব্যবহার করে কোনও অপরাধ ঘটানো সম্ভব হবে না। সেই সঙ্গে অ্যাপগুলি নিয়মিত মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারের নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করে দেখবে, ব্যবহৃত সিমটি সক্রিয় আছে কি না। সিমে সামান্য আঁচড় পড়লে বা নেটওয়ার্ক র্দুর্বল থাকলে অ্যাপগুলি সঠিকভাবে কাজ করবে না। সেক্ষেত্রে আসল গ্রাহককে সমস্যায় পড়তে হবে। তবে নতুন এই পদ্ধতি কার্যকর হয়ে গেলে যে কোনও জালিয়াতির তদন্ত পুলিশের পক্ষে আরও দ্রুত করা সম্ভব হবে।  ওই অ্যাপ কোন নেটওয়ার্ক থেকে ব্যবহৃত হয়েছে, তার সমস্ত তথ্য পুলিশের কাছে চলে আসবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ