Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

ক্রমাগত রুপোর দাম বাড়ায় মিলছে না অর্ডার, পুজোর মুখে হতাশ কারিগররা

গত এক বছরে রুপোর দাম বেড়েছে কেজি প্রতি প্রায় ৪২ হাজার টাকা। টালমাটাল অবস্থা বাজারের। এই হারে দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পড়ে কেনাকাটায়।

ক্রমাগত রুপোর দাম বাড়ায় মিলছে না অর্ডার, পুজোর মুখে হতাশ কারিগররা
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গত এক বছরে রুপোর দাম বেড়েছে কেজি প্রতি প্রায় ৪২ হাজার টাকা। টালমাটাল অবস্থা বাজারের। এই হারে দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পড়ে কেনাকাটায়। আর বিক্রিবাটা কমলে কোপ নেমে আসে দোকানি ও কারিগরদের উপর। ওয়েস্ট বেঙ্গল বুলিয়ান মার্চেন্টস অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, গত বছর এই সময়ে এক কেজি রুপোর দাম ছিল ৮৭ হাজার ৮০০ টাকা। সেটাই এই বছর পুজোর মুখে এসে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৯০০ টাকায়। গত কয়েক মাস ধরে প্রায় রোজই চড়েছে রুপোর দাম। ফলে চাহিদা কমেছে বাজারে। বাজারের এই অস্থিরতার কারণে বেশি রুপো কিনতে চাইছেন না মহাজনরা। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে মগরাহাটের রুপোর কারিগরদের উপর। পুজোর মুখে মহাজনদের ঘর থেকে অর্ডার না পাওয়ায় পেটে টান পড়েছে তাঁদের। গত বছর যেখানে নাওয়া-খাওয়া ভুলে রুপোর গয়না ও অন্যান্য সামগ্রী বানিয়েছিলেন তাঁরা, সেখানে এবার সব ব্যস্ততা উধাও। কেউ কেউ সামান্য অর্ডার পেলেও সিংহভাগ কারিগরই হাত গুটিয়ে বসে আছেন। ফাঁকা পড়ে রয়েছে কারখানা। জানা গিয়েছে, আগে মহাজনরা যেখানে গড়ে ১০-১২ কেজি রূপো বিক্রি করতেন ব্যবসায়ীদের, তা বর্তমানে নেমে এসেছে ২-৩ কেজিতে। ব্যবসায়ীদের কথায়, ক্রমাগত দাম বেড়ে চলায় মহাজনরা ঝুঁকি নিয়ে রুপো স্টক করতে চাইছেন না। মগরাহাটের বিস্তীর্ণ গ্রামে এখন হতাশার ছবি। উত্তম হালদার, কল্যাণ মণ্ডল, নরেশ কর, দিলীপ করদের মতো বহু কারিগর কার্যত বিনা কাজেই বসে আছেন। তাঁরা আবার কারিগরদেরও ছাড়তে পারছেন না। পাছে অর্ডার এসে গেলে যদি সময়ে ডেলিভারি দিতে না পারেন। তাই জমানো পুঁজি ভেঙেই ওই কারিগরদের বেতন ও পুজোর বোনাস দিতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের কথায়, রুপোর দামে যদি স্থিরতা আসত, তাহলে এতটা সমস্যা হতো না। দি মগরাহাট সিলভার ফিলিগ্রি ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান তাপস মণ্ডল বলেন, খুব কঠিন সময় চলছে। কোথাও সেভাবে অর্ডার নেই। পুজোর আগে এমন পরিস্থিতি ভাবা যায় না।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ