নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: নৌকায় গোসাবা থেকে গদখালি পারাপার করা যেন বিভীষিকা হয়ে উঠেছে যাত্রীদের। প্রায়ই নৌকা আটকে যাচ্ছে চরে। কখনও আবার চরে ধাক্কা লেগে নৌকা উলটে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ভাটার সময় এই ঘটনা বেশি ঘটছে। দীর্ঘদিন ড্রেজিং না হওয়ায় পলি জমেছে বিদ্যাধরী নদীতে। কমেছে নাব্যতা। তার জেরেই চর গজিয়ে উঠেছে নদীবক্ষে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গোসাবার বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর সরকারের কাছে বিদ্যাধরী নদীতে ড্রেজিং করার দাবি জানিয়েছেন। সামনেই শীতের মরশুম। ভিড় বাড়বে ঘাটে। সমস্যার সমাধান না হলে বিপদ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
গঙ্গাসাগর মেলার আগে প্রতি বছর মুড়িগঙ্গা নদীতে ড্রেজিং হলেও বিদ্যাধরী নদীতে কখনই এই কাজ করা হয়নি। জোয়ারের সময় নৌকা চলাচল ঠিক থাকলেও ভাটায় সমস্যা তৈরি হয়। সম্প্রতি এই সমস্যা ব্যাপক আকার নিয়েছে। গোসাবা ঘাট থেকে নৌকা চলাচলের সমস্যা হয় না খুব একটা। কিন্তু যে মুহূর্তে সেটি গদখালির কাছাকাছি আসে, তখনই যাত্রীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। দিনকয়েক আগে একটি নৌকা গদখালি ঘাটে ঢোকার মুখে চরে ধাক্কা খেয়ে উলটে গিয়েছিল। ভাটা চলছিল বলে বড়ো দুর্ঘটনা ঘটেনি। যাত্রীরা জলে পড়ে গেলেও তাঁদের সহজেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ঘাট থেকে কিছুটা দূরে জলে আটকে পড়ে একটি যাত্রীবাহী নৌকা। তখন ওই যাত্রীদের অন্য একটি নৌকায় করে ঘাটে নিয়ে আসা হয়। চর এতটাই বেড়েছে যে, অনেক সময় ভাটায় গদখালি থেকে নৌকা চলাচল করতে পারে না। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। রোগী নিয়ে যেতে হলে তো কথাই নেই! সেক্ষেত্রে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় রোগীর পরিজনদের। যতদিন না নদীর নাব্যতা বাড়ছে, ততদিন এই সমস্যা থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিধায়ক বলেন, আমরা জেলাশাসক, পরিবহণ দপ্তর সহ বিভিন্ন দপ্তরের কাছে বিদ্যাধরীতে ড্রেজিং করার জন্য চিঠি লিখেছি। দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত উদ্ধার করা যায়, তারজন্য সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের মোতায়েন রাখা হয়েছে।



