নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: রবিবাসরীয় প্রচারে প্রার্থীরা কেউ গেলেন বাজারে, কেউবা জনসংযোগের জন্য বেছে নিলেন মেলার ভিড়। কেউ আবার কর্মী বৈঠক সেরে ছুটলেন মন্দিরে। কোনো প্রার্থীর দেখা মিলল মসজিদে কিংবা চার্চে। কেউবা আবার পুজোর প্রসাদ খেতে গিয়ে ‘খেলা হবে’র গানে নাচলেন মহিলাদের সঙ্গে। সবমিলিয়ে জমে উঠল প্রচার।
ভোটে জিতলেই জেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে শিলিগুড়ি! রবিবার নির্বাচনি ময়দানে এমনই প্রতিশ্রুতি দেন তৃণমূলের শিলিগুড়ির প্রার্থী গৌতম দেব। একইসঙ্গে জমির পাট্টা, রিচা ঘোষের নামে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম গড়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। ভোটের ময়দানে বাংলায় কয়েকটি নতুন জেলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অবশ্য কোন কোন এলাকা নিয়ে ক’টি জেলা হবে, বলেননি। এমন প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়িকে নিয়ে নতুন জেলা করার প্রস্তাব প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী।
শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারের ফাঁকে গৌতম বলেন, ভোটে জেতার পর শিলিগুড়িকে জেলা করার উদ্যোগ নেব। এ ব্যাপারে রাজ্যে প্রস্তাব পাঠাব। দলের সুপ্রিমোকে জানিয়েছি।
বাগডোগরায় প্রচারে বেরিয়ে পানিঘাটা রোডে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির সিপিএম প্রার্থী ঝরেন রায়ের মুখোমুখি হন পদ্ম প্রার্থী আনন্দময় বর্মন। তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে খড়িবাড়িতে মিছিল করেন ফাঁসিদেওয়ার তৃণমূল প্রার্থী রীনা টোপ্পো এক্কা। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন শীলশর্মা শিলিগুড়ির পুরসভার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ে প্রচার শুরু করেন। বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলাপাড়ায় বুথ অফিসের দ্বারদ্ঘাটন করেন। পরে অশোকনগরে প্রচারে যান।
বিভিন্ন বাজারে প্রচার করেন জলপাইগুড়ির বিজেপি প্রার্থী অনন্তদেব অধিকারী। তিনি পুজোও দেন মন্দিরে। বাড়িতে কর্মী বৈঠক সেরে তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাস মসজিদে যান। সিপিএম প্রার্থী দেবরাজ বর্মন ১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচার চালান। পরে মেলায় যান। রাজগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মন পানিকৌড়িতে নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধনে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক খগেশ্বর রায়। ধূপগুড়িতে চার্চে যান তৃণমূল প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়। সাতভেন্ডিতে আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকান পরিদর্শন করেন। ময়নাগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী রামমোহন রায় জল্পেশ বাজারে প্রচার করেন। পরে ময়নাগুড়ি শহরে একটি বাড়িতে কালীপুজোর প্রসাদ খেতে গিয়ে ‘খেলা হবে’র গানে নাচেন। বিজেপি প্রার্থী কৌশিক রায় আমগুড়ি সহ বিভিন্ন এলাকায় কর্মী বৈঠক সারেন। রাজগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী দীনেশ সরকার কর্মিসভা করেন।
কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক বাঁধের পারে প্রচার সারেন। শিশুদের চকোলেট, সাধারণ মানুষের মধ্যে গীতা বিলি করেন। বিজেপি প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বসু রাজবাড়িতে প্রচারে যান। সিতাইয়ের আঁটিয়াবাড়িতে প্রচার করেন তৃণমূল প্রার্থী সঙ্গীতা রায়। পুঁটিমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেন দিনহাটার বিজেপি প্রার্থী অজয় রায়। দিনহাটার ১ নম্বর ওয়ার্ডে উদয়ন গুহের সমর্থনে মিছিল করে যুব তৃণমূল। মাথাভাঙায় দিনভর প্রচার চালান বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক। তুফানগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী শিবশংকর পাল ফলিমারিতে প্রচার করেন।
তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ টোপ্পো মাদারিহাটের বান্দাপানিতে প্রচার চালান। বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ লিম্বু যান বিন্নাগুড়িতে। কালচিনির তৃণমূল প্রার্থী বীরেন্দ্র বরা ওরাওঁ দিনভর চা বাগানেই প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। বিজেপি প্রার্থী বিশাল লামাও এদিন বিভিন্ন চা বাগানে প্রচারে ছিলেন। আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল প্রার্থী সুমন কাঞ্জিলাল শহরের ওয়ার্ডেই প্রচার চালান। বিজেপি প্রার্থী পরিতোষ দাস ও সিপিএম প্রার্থী শ্যামল রায়ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘোরেন। ফালাকাটার তৃণমূল প্রার্থী সুভাষ রায় গুয়াবরনগর ও জটেশ্বর-২ পঞ্চায়েতে প্রচার চালান। বিজেপি প্রার্থী দীপক বর্মন দেওগাঁ ও গুয়াবরনগর অঞ্চলে প্রচার চালান। মাদারিহাটে আরএসপি প্রার্থী সুভাষ লোহার চা বাগানে প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। • প্রচারে গৌতম দেব। - নিজস্ব চিত্র।