


তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষের নিজের ভোট কেন্দ্রেই প্রথমবার ভোট দিতে এসে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তুললেন এক তরুণী। ঘটনার খবর পেয়ে পরে নিজে দায়িত্ব নিয়ে ওই যুবতীর টেন্ডার ভোট করানোর আশ্বাস দেন শংকর। বৃহস্পতিবার ভারতনগরের রামকৃষ্ণ পাঠশালার ২৩৫ নম্বর বুথে সস্ত্রীক ভোটদান করতে আসেন শংকর ঘোষ। সেই সময় এলাকারই বাসিন্দা গোপাল দাস তাঁর মেয়ে কাজলকে নিয়ে ভোট দিতে আসেন। গোপালবাবু ভোট দিলেও কাজলকে জানানো হয়, তাঁর ভোট হয়ে গিয়েছে। যা শুনে চোখে রীতিমতো জল চলে আসে তরুণীর। বুথ থেকে বেরিয়ে যান কাজল। পরে তিনি জানান, বুথের ভেতরে ভোটার স্লিপ নিয়ে ঢুকতেই তাঁকে জানানো হয় তাঁর ভোট নাকি পড়ে গিয়েছে। তিনি হতাশ হয়ে যান। তাঁর বাবাও একইভাবে ঘাবড়ে যান। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে কীভাবে এই ভোট পড়ে গেল তা নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ায়।
এদিকে, খবর পেয়েই কাজল ও তাঁর বাবাকে নিয়ে ফের বুথে এসে প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন শংকর ঘোষ। এমনকী জেলা নির্বাচন আধিকারিককে জানানোর পরে জেনারেল অবজার্ভার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তাঁকে টেন্ডার ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে শংকরবাবু বলেন, আমি নিজে গিয়ে কথা বলেছি। এক্ষেত্রে নাম বিভ্রাট হয়েছে। কাজল দাসের জায়গায় কাজল শেঠ ভোট দেন। সেই তথ্য যাচাই করতে গিয়ে আধিকারিকদের ভুল হয়েছিল। ঠিক করে নেওয়া হবে। যদিও বিজেপি প্রার্থীর এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে এক্ষেত্রে এই ঘটনার পিছনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিজেপির আঁতাত বলে দাবি করেছে তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেস প্রার্থীরা। তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব বলেন, আমি প্রার্থী হিসাবে বুথে ঢুকতে যাওয়ার সময় আমাকেই কোন দলের প্রার্থী তার জবাব দিতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে কীভাবে সেই বাহিনীর উপস্থিতে এমন ছাপ্পা ভোট পড়ল? এর থেকেই পরিষ্কার যে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিজেপির আঁতাতে এসব হয়েছে। সিপিএম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী ও কংগ্রেস প্রার্থী অলোক ধারাও একই সুরে বলেন, যে বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোট করলে কোনো ছাপ্পা হবে না বলে দাবি করা হয়েছিল সেখানে এটা কীভাবে সম্ভব। সবটাই নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিজেপির সংগঠিত যোগসাজশ।