Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলিগুড়ি: এবার লক্ষ্য পূরণ হয়নি, আগামী মরশুমে ধান সংগ্রহের টার্গেট বৃদ্ধি, আজ প্রশাসনিক বৈঠক

এবারও টার্গেট অধরা। তবুও আগামী খারিফ মরশুমের সহায়কমূল্যে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি শিলিগুড়িতে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২৪-’২৫ মরশুমে ধান সংগ্রহের পরিমাণ ৯৮ শতাংশ।

শিলিগুড়ি: এবার লক্ষ্য পূরণ হয়নি, আগামী মরশুমে ধান সংগ্রহের টার্গেট বৃদ্ধি, আজ প্রশাসনিক বৈঠক
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এবারও টার্গেট অধরা। তবুও আগামী খারিফ মরশুমের সহায়কমূল্যে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি শিলিগুড়িতে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২৪-’২৫ মরশুমে ধান সংগ্রহের পরিমাণ ৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই শতাংশ কম সংগ্রহ হয়েছে। তা হলেও ২০২৫-’২৬ মরশুমে ধান সংগ্রহের টার্গেট প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন বাড়ানো হয়েছে। রাজ্য সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীদের একাংশ দুশ্চিন্তায়। তাঁরা আগামী মরশুমেও টার্গেট পূরণ নিয়ে সন্দিহান। তবে, ধানের সহায়কমূল্য কুইন্টাল প্রতি ৬৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার সমগ্র বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করবে জেলা প্রশাসন। 

Advertisement

রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের মতো শিলিগুড়ি মহকুমায় ২০২৪-’২৫ খারিফ মরশুমে সহায়কমূল্যে ধান কেনা শুরু হয় গত বছর নভেম্বর মাসে। তা চলার কথা সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। চাষির কাছে ধান না থাকায় প্রশাসন সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২৪-’২৫ মরশুমে মহকুমায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লক্ষ ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। যার মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে ১ লক্ষ ১ হাজার ৪৭৯ মেট্রিক টন। সেটা লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ শতাংশ। ধানের সহায়কমূল্য ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল। কেন্দ্রীয় ক্রয় কেন্দ্রে (সিপিসি) ধান নিয়ে গেলে কুইন্টাল পিছু অতিরিক্ত ২০ টাকা করে উৎসাহভাতা পান কৃষকরা। এতে উপকৃত হয়েছেন ২২ হাজার ৯৯২ জন কৃষক। 
জেলা খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের অফিসারদের একাংশ জানান, গত বছরও লক্ষ্যমাত্রার থেকে কম ধান সংগ্রহ হয়েছে। এবারও পরিস্থিতি এক। সিপিসির সংখ্যা বাড়িয়ে, ভ্রাম্যমাণ সিপিসি নামিয়েও টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হয়নি। লক্ষ্যমাত্রার থেকে প্রায় ২ হাজার ২১ মেট্রিক টন কম ধান সংগ্রহ হয়েছে। আগামী বছরও টার্গেট পূরণ হবে কি না সন্দেহ রয়েছে। জেলার খাদ্য নিয়ামক মানিক সরকার অবশ্য বলেন, ধান সংগ্রহের হার খুব কম নয়। সকলের সহযোগিতায় আগামী বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলেই আশা করছি। 
এদিকে, শিলিগুড়িতে এখনও জমিতে ধান রয়েছে। নভেম্বর মাস নাগাদ তা জমি থেকে তোলা হবে। কিন্তু ২০২৫-’২৬ খারিফ মরশুমের ধান সংগ্রহ নিয়ে আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। আজ, জেলা প্রশাসন সমগ্র বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করবে। বৈঠকে জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল ছাড়াও জেলার খাদ্য নিয়ামক সহ সর্বস্তরের আধিকারিকদের থাকার কথা। প্রশাসন সূত্রে খবর, এবার মহকুমায় ধান সংগ্রহের টার্গেট ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ লক্ষ ৫ হাজার মেট্রিক টন। রাজ্য সরকার সহায়কমূল্য বাড়িয়ে করেছে ২ হাজার ৩৬৯ টাকা প্রতি কুইন্টাল। সিপিসিতে নিয়ে গেলে মিলবে অতিরিক্ত ২০ টাকা। জেলার খাদ্য নিয়ামক বলেন, আগামী মরশুমের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছি। দ্রুত প্রচার অভিযানে নামা হবে। 
এদিকে, চলতি মরশুমে সংগ্রহ করা ধান থেকে ইতিমধ্যেই চাল করা হয়েছে। সংগৃহীত ১ লক্ষ ১ হাজার ৪৭৯ মেট্রিক টন ধান থেকে চাল উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ৬৮ হাজার মেট্রিক টন। ইতিমধ্যে রাইস মিলের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে ৬৫ হাজার মেট্রিক টন। বাকি তিন হাজার মেট্রিক টনও নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ