সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির ম্যাপ থেকে নিশ্চিহ্ন এমএম তরাই পিকনিক স্পট। তিন সপ্তাহ আগে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে সেই স্পট গ্রাস করেছে বালাসন নদী। শীতের মরশুমের আগেই গ্রামীণ এলাকায় নতুন পিকনিক স্পট তৈরি করত চাইছে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ। তারা এজন্য জায়গা খুঁজছে। এদিকে, বালাসন নদীর জলরাশি মহানন্দা নদীতে মিশেই প্লাবিত হয় পোড়াঝার। গ্রামে বাঁধ তৈরির পর একথা জানিয়েছে সেচদপ্তর।
শিলিগুড়ি মহকুমার পিকনিক স্পটগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল এমএম তরাই। বাগডোগরার পানিঘাটা মোড় থেকে ব্যাংডুবি সেনা ছাউনি হয়ে দুধিয়াগামী রাস্তার ধারেই ছিল স্পটটি। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে পাহাড়ে প্রবল বর্ষণ ও বালাসন নদীর জলস্ফীতির জেরে এলাকাটি ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে সেখান দিয়ে বইছে বালাসন। স্থানীয়রা বলেন, কয়েক বছর আগে তৈরি হয় পিকনিক স্পটটি। চা বাগান, মিরিক পাহাড় ও বালাসন নদীর অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতেই ফি-বছর শীতে পিকনিক করতে আসত লোকজন। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বালাসন গতিপথ পরিবর্তন করে পিকনিক স্পটটি গিলে ফেলেছে।
নকশালবাড়ি ব্লকের আপার বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে ছিল সংশ্লিষ্ট স্পটটি। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জীব সিনহা বলেন, পিকনিক পার্টির সদস্য সহ পর্যটকদের জন্য সেখানে পানীয় জল, শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য ছিল স্লিপার, দোলনা। খাবারের কিছু দোকানও ছিল। নদীর তাণ্ডবে ম্যাপ থেকেই স্পটটি নিশ্চিহ্ন। এখন নদীর গ্রাসের মুখে রাস্তা, বসতি এলাকা ও গুম্ফা। সেগুলি রক্ষা করার চেষ্টা করছে সেচদপ্তর।
সেচদপ্তরের শিলিগুড়ি ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়াররা বলেন, বিপর্যয়ের জেরে ওই এলাকায় বালাসন নদীর প্রায় ২০০ মিটার পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জরুরি ভিত্তিতে বালির বস্তা, পাথর, তারজালি দিয়ে ভাঙন মেরামত করা হয়েছে। শুখা মরশুমে পাকাপাকিভাবে পাড় বাঁধানোর কাজ করা হবে। এজন্য প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে, শীতের মরশুমের আগে নতুন করে পিকনিক স্পট তৈরির চিন্তাভাবনা করছে মহকুমা পরিষদ। ইতিমধ্যে তারা প্রতিটি পঞ্চায়েত সমিতিকে এ ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ বলেন, নকশালববাড়িতে আরও কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। নদীর গতিপথ পর্যালোচনা করার পর সেগুলির থেকে কোনও একটি কিংবা অন্য ব্লকের কোনও স্থানকে পিকনিক স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
অন্যদিকে, বিপর্যয়ে শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের পোড়াঝার গ্রাম প্লাবিত হওয়ার নেপথ্যেও বালাসন নদী। ৪ অক্টোবর বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে ওই গ্রামও প্লাবিত হয়। সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা বলেন, নৌকাঘাটের কাছে মহানন্দা নদীতে মিশছে বালাসন। এই সঙ্গমস্থলের নিম্ন অববাহিকায় পোড়াঝার গ্রাম। বালাসনের তীব্র স্রোতের ধাক্কায় মহানন্দার জলের তোড়ে বাঁধের ৩০ মিটার অংশ ভেঙে গ্রামটি প্লাবিত হয়েছিল। সেই বাঁধটি মেরামত করা হয়েছে।