নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: রবিবার ‘সারসারি শংকর’ কর্মসূচি করলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। এর আগে তিনি বাঘাযতীন পার্কে এই কর্মসূচি করে বহু মানুষের অভাব অভিযোগ শুনেছিলেন। এদিন বাবুপাড়ার ওয়াইএমএ মাঠে কর্মসূচিতে জনা পঞ্চাশ মানুষ তাদের এলাকার সমস্যা, অভাব অভিযোগ নথিভুক্ত করেন। বিধায়কের দাবি, যতটা পারা যায় সাধ্যমতো সমাধানের পথ তিনি খুঁজবেন। যদিও এরজন্য ভারতনগরে বিধায়ক কার্যালয়ে আগে থেকে নাম লেখাতে হয়েছিল। মন্ত্রীর দাবি, আগে থেকে অনেকে নাম লেখালেও তার বাইরেও অনেকে সমস্যার নিয়ে বলতে চেয়েছেন। সকলে হয়তো সুযোগ পাননি। তবে যতটা সম্ভব চেষ্টা করছেন সকলের কথা শোনার।
অনেকেই জমি জবরদখল নিয়ে মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানান। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলার অনিতা মাহাতর বিরুদ্ধে লক্ষ্মীদেবী নামে এক মহিলা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর সমস্ত নথিপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও ফ্ল্যাট তৈরি করতে বাধা দিচ্ছেন কাউন্সিলার। এমন অভিযোগ করার সময় কাউন্সিলার মন্ত্রীর সামনেই বসেছিলেন। অস্বস্তিতে পড়ে যান তিনি। যদিও তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে উঠে যান ওই কাউন্সিলার। মন্ত্রী বিষয়টি দেখে সমাধান করার আশ্বাস দেন। ফুলবাড়ির এক বাসিন্দা মন্ত্রীকে জানান, তৃণমূলের বেশকিছু গুন্ডাবাহিনী একসময় তাঁর মেয়েকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছিল। সেই অভিযোগের এখনও পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। বিষয়টি মন্ত্রীকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ জানান তিনি। চেন্নাইতে কর্মরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান তাঁর তিন কাঠা জমি শিলিগুড়ির এক প্রভাবশালী ব্যক্তি আটকে রেখেছেন বলে দাবি করেন। তাঁকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান। চাকরি সূত্রে বাইরে থাকলেও তাঁর পরিবার হায়দরপাড়ায় থাকে। কাজেই সারক্ষণ আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। এছাড়াও জমি দখল থেকে পাড়ায় দাদাগিরির অসংখ্য অভিযোগ মন্ত্রীর কাছে জমা পড়েছে। সবক’টি অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন শংকর ঘোষ।
পরে তিনি বলেন, যেসব অভিযোগ এসেছে সব খতিয়ে দেখা হবে। কেউ অন্যায় কাজ করে থাকলে আইনি পথে হাঁটা হবে। সেক্ষেত্রে কোনো সরকারি আমলাও জড়িত থাকলে ছাড় পাবেন না। কাউন্সিলার অনিতা মাহাত বলেন, বাড়ির সীমানা পাঁচিলের সঙ্গে একটি সিঁড়ি বেআইনি নির্মাণ নিয়ে একটা সমস্যা ছিল। বেআইনি নির্মাণের বিষয়টি পুরসভা দেখে। পুরসভা কেন নোটিস দিয়ে কাজ বন্ধ করেছে, তা আমি বলতে পারব না। • ওয়াইএমএ মাঠে জনতার অভিযোগ শুনছেন শংকর। - নিজস্ব চিত্র।