নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: কেন্দ্রীয় সহায়তা নগন্য। হাউজিং ফর অল প্রকল্পও বন্ধ করেছে কেন্দ্র। তা হলেও শিলিগুড়ি শহরের উন্নয়ন থমকে নেই। রাজ্য সরকারের সহায়তা ও নিজস্ব আয়ে শহরে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার পুরসভার ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের প্রস্তাবিত ৬৮৫ কোটি ২৪ লক্ষ টাকার বাজেট নিয়ে আলোচনা সভার পর একথা জানান মেয়র গৌতম দেব। তিনি বলেন, এই শহরে হোটেল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য শিল্পে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে। এডুকেশনাল হাব হিসেবে গড়ে উঠছে এই শহর। গত মঙ্গলবার ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের জন্য ৬৮৫ কোটি ২৪ লক্ষ টাকার বাজেট পেশ করে পুরসভা। যা গত ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষের থেকে প্রায় ৬৬ কোটি ৩৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বেড়েছে। এদিন পুরভবনে আলোচনা সভায় বাজেটের সমালোচনা করেছেন বিরোধীরা।
সিপিএম কাউন্সিলার তথা প্রাক্তন মেয়র মুন্সি নুরুল ইসলাম বলেন, ২০২১-’২২ অর্থবর্ষে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৬৯ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে সেই অর্থ খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ১৯৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকার মতো। ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৩১৮ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি টাকা। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে প্রস্তাবিত বরাদ্দ একইভাবে কমে দাঁড়ায় প্রায় ২৮৩ কোটি টাকা। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষেও একই অবস্থা। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটও তাই হবে। এটা উন্নয়নের ফানুস ছাড়া কিছু নয়। এটা বাজেট পুস্তিকা নয়, প্রচার পুস্তিকা বলা ভালো। কাজেই এই বাজেটকে সমর্থন করছি না।
একই রকমভাবে বাজেটের সমালোচনা করেন বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন। বলেন, গত তিন বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রায় ৫০ শতাংশ অর্থই খরচ হয়নি। এটা ‘মুঙ্গিরিলালের’ স্বপ্নের বাজেট। এরসঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। বিগত বছরের কপি-পেস্ট বাজেট এটি। তাই এই বাজেটকে সমর্থন করছি না। অবাস্তব এই বাজেটের অর্থ জোগানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিশেষ অনুদান চাইছে বর্তমান বোর্ড।
এরবাইরে সিপিএম কাউন্সিলাররা অস্থায়ী কর্মীদের বেতন ১০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি জানান। শহরের আইন-শৃঙ্খলা, যানজট সমস্যা ও মাদক কারবার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বস্তিবাসীদের নিরাপত্তার জন্য রেলের জমি হস্তান্তরের দাবি উঠেছে। সভায় ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার বলেন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এই শহরে বিপ্লব ঘটেছে। প্রতিবেশী রাজ্য অসমের বাসিন্দারাও এখানে চিকিৎসার জন্য আসছেন।
সভায় মেয়র বলেন, কর্মী আমাদের ভিত্তি। সবদিক বিচার বিবেচনা করেই অস্থায়ী কর্মীদের বেতন ৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আগামী জেনারেশনকে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। তাই মাদকের বিরুদ্ধে নাগরিক কমিটি গড়া হবে। তবে কর না বাড়িয়ে বিভিন্ন দিক থেকে পুরসভার আয় বাড়িয়েছি। মূলত নিজস্ব আয় ও রাজ্য সরকারের সহায়তায় এই বাজেট করেছি। সবশেষে ধ্বনি ভোটের মধ্যদিয়ে ৬৮৫ কোটি ২৪ লক্ষ টাকার বাজেট পাশ করা হয়।