সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দুর্যোগ বিধ্বস্ত শিলিগুড়ি সংলগ্ন পোড়াঝারের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠেছে জলের সংকট। ৫ অক্টোবর ভোরে মহানন্দা নদীর জল ঢুকে প্রতিটি বাড়ির জলের উৎস পাতকুয়ো, টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কুয়োয় দূষিত জলে ও পলি ভরে যাওয়ায় তা খাওয়ার অযোগ্য। দৈনন্দিন কাজেও তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে জানান বাসিন্দারা। এখনও প্রত্যেকটি বাড়ির কুয়োর জল ঘোলা ও দূষিত।
এই অবস্থায় বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জলের চাহিদা মেটাচ্ছে শিলিগুড়ি পুরসভা। ৫ অক্টোবর প্লাবিত হওয়ার দিন থেকে রবিবার পর্যন্ত শিলিগুড়ি পুরসভা ট্যাংকে করে জল পৌঁছে দিয়েছে পোড়াঝারের মানুষের জন্য। কিন্তু এই দায়িত্ব আর নেবে না পুরসভা।
শনিবার শিলিগুড়ি পুরসভার টক টু মেয়র ফোন ইন লাইভ অনুষ্ঠানে শহরের বাসিন্দারা জল সংকটের কথা জানান। অনেকেই অভিযোগ করেন, তাঁদের এলাকায় জলের ট্যাংক পৌঁছচ্ছে না। তার প্রেক্ষিতেই মেয়র গৌতম দেব পুরসভার আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, পোড়াঝারে পুরসভার জলের ট্যাংক তুলে নেওয়ার এবং বিষয়টি জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনকে জানাতে। পরে এক প্রশ্নের উত্তরে মেয়র বলেন, প্রথম দিন থেকেই আমরা জল সরবরাহ করে আসছি। কিন্তু শিলিগুড়িতেও জলের সংকট রয়েছে। ট্যাংকে অভাবে সবখানে জল পৌঁছন যাচ্ছে না। তাই এবার পোড়াঝারের পানীয় জলের দায়িত্ব জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনকে নিতে হবে।
পোড়াঝার শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া হলেও জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য রাজু মণ্ডল বলেন, এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। এখনও বাড়ির পাতকুয়ো, টিউবওয়েলের জল পানের যোগ্য নয়। এখন শিলিগুড়ি পুরসভার জলই একমাত্র ভরসা। এই অবস্থায় যদি পুরসভা জল সরবরাহ বন্ধ করে তাহলে সমস্যা হবে। এব্যাপারে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা মেরামতের কাজ চলছে। রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর এই কাজ করেছে। এখনও তা শেষ হয়নি। রাজু মণ্ডল বলেন, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পানীয় জল সরবরাহের কাজ শেষ হতে আরও এক সপ্তাহ লাগবে। এদিকে দুর্গত বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এলাকায় পানীয় জল পরিশোধিত করার ব্যাপারে পঞ্চায়েত বা প্রশাসনের তরফে কোনও উদ্যোগ নেই। কুয়োর জল পরিশোধিত করার ব্যাপারে তাঁরা সাহায্য পাচ্ছেন না।