সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: নববর্ষের বিকেল। ঘোলাটে আকাশ। মনোরম হাওয়া। বুধবার শিলিগুড়িতে এমন আবহাওয়ায় দলীয় প্রার্থী গৌতম দেবের সমর্থনে ‘মেগা’ পদযাত্রা করেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: নববর্ষের বিকেল। ঘোলাটে আকাশ। মনোরম হাওয়া। বুধবার শিলিগুড়িতে এমন আবহাওয়ায় দলীয় প্রার্থী গৌতম দেবের সমর্থনে ‘মেগা’ পদযাত্রা করেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এতেই শহরের ‘লাইফ লাইন’ হিলকার্ট রোডে আছড়ে পড়ে জনসুনামি। তাতে ঢাকের বোল থেকে ধামসা, মাদলের তাল। বাঙালি থেকে অবাঙালি। রাজবংশী থেকে আদিবাসী নৃত্য। সর্বধর্মের প্রতিনিধি থেকে লক্ষ্মীর বেশ। সঙ্গে সাউন্ড বক্সে চলছিল- ‘যতই কর হামলা, আবার জিতবে বাংলা গান’ ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। শুধু তাই নয়, রাস্তার দু’পাশে তখন কালো মাথার ভিড়। তাঁদের উদ্দেশে কখনও হাতজোড় করেন,আবার হাত নাড়েন। একই ভাবে তাঁকে সাড়া দেন জনতাও। সবমিলিয়ে ভোটের মুখে নববর্ষ অন্য রকমভাবে কাটাল শহর।
মিছিলের পর শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব ভিক্ট্রি চিহ্ন দেখিয়ে বলেন,ইদানিংকালে শহরে এমন পদযাত্রা হয়নি। শহরের লাইফলাইন জনসমুদ্রের রূপ নেয়। তা দেখে অভিভূত। এতেই স্পষ্ট এবার ভোটে এখানে জিতবই। দিদিও (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) জয় নিয়ে প্রত্যয়ী। তিনি শুধু মাথা ঠান্ডা রেখে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
হিলকার্ট রোডের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলির মধ্যে এসডিও অফিস চত্বর অন্যতম। সেখান থেকে সফদার হাসমি চক। প্রায় সাড়ে তিন কিমি। এদিন সকালেই জোড়াফুলের ঝান্ডা, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি, দলীয় প্রার্থী গৌতমের ব্যানার, হোর্ডিং, ফ্লেক্সে সাজিয়ে তোলা হয়। দুপুর থেকে শহরের অধিকাংশ রাস্তার অভিমুখ হয়ে ওঠে এসডিও অফিসগামী। দলীয় ঝান্ডা কাঁধে পিলপিল করে মিছিল এসে এসডিও অফিস মোড়ে জড়ো হয়। বেলা দু’টোর মধ্যেই সাজানো হয় মিছিল। মিছিলের অগ্রভাগে ছিল তিনটি সুসজ্জিত টোটো ও দু’টি ট্যাবলো। তাতে চলছিল স্লোগান।
দ্বিতীয় স্থানে শতাধিক ঢাকি। যার মধ্যে ২০ জন মহিলা ঢাকি। তাঁদের গায়ে ছিল হলুদ শাড়ি। আর পুরুষদের তৃণমূল প্রার্থী গৌতমের ছবি ওয়ালা সাদা জার্সি ও টুপি। তৃতীয় স্থানে রাজবংশী বৈরাতি নৃত্যের দল। হাতে চালুন ও পরনে সবুজ পাড় দেওয়া হলুদ শাড়ি। তাঁদের সঙ্গেই ছিল লক্ষ্মীর বেশে আর একটি নাচের দল। লালপাড় শাড়ি পরা। এরপর ব্যানার হাতে দলের মহিলারা। আকাশে উড়ছে ড্রোন ক্যামেরা। এরপরই ‘ডি’ জোন। নিরাপত্তাকর্মীদের ভিড়।
সবশেষে মূল মিছিল। তাতে সর্বধর্মের প্রতিনিধি, দলের শিলিগুড়ির কেন্দ্রের প্রার্থী গৌতম ছাড়াও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির প্রার্থী শংকর মালাকার ও ফাঁসিদেওয়ার প্রার্থী রীনা টোপ্পো এক্কা সহ দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। দলীয় ঝান্ডা, পতাকা ছাড়াও তাঁদের অনেকে মমতা ও প্রার্থীদের মুখোশ পরেছিলেন। কেউ কেউ রান্নার গ্যাসের সংকটের প্রতিবাদে সিলিন্ডারের কাটআউট নিয়ে আসেন।
বিকেল ৪টা নাগাদ এসডিও অফিস মোড়ে আসেন তৃণমূল নেত্রী। শত ঢাকের বোল ও স্লোগানে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। শুরু হয় পদযাত্রা। রাস্তার একপাশে বাঁশের ব্যারিকেড, অন্য পাশে ডিভাইডার ঘেঁষে জনতার ঠাসা ভিড়। তাঁদের অধিকাংশ মোবাইলে ছবি তুলছিলেন। কেউ কেউ মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে হাত নাড়ছিলেন। মিছিলের মাথা যখন মহাত্মা গান্ধী মোড়ে, তখন লেজ ছিল জংশনের কাছে। বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ সফদার হাসমি চকে মিছিল শেষ করে হেলিপ্যাডের দিকে চলে যান মমতা।