সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: ইস্ট বেঙ্গলের ডুরান্ড কাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে রবিবার কার্যত লাল-হলুদে রাঙিয়ে উঠল শিলিগুড়ি। কলকাতায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ডার্বিতে ইস্ট বেঙ্গলের ৪-১ গোলের জয় ঘিরে লাল- হলুদের শহর বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। আবির খেলা, বিজয় মিছিল, নাচে- গানে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন লাল-হলুদ সমর্থকরা।
ডার্বি দেখার জন্য এদিন সকাল থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের সুইমিংপুল সংলগ্ন এলাকায় জায়ান্ট স্ক্রিনের ব্যবস্থা করেছিলেন ইস্ট বেঙ্গল ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা। দুপুর গড়াতেই কাতারে কাতারে সমর্থক সেখানে হাজির হন। খেলা শুরু হতেই উল্লাসে কেঁপে ওঠে গোটা চত্বর। খেলা শুরুর ১১ মিনিটেই ইস্ট বেঙ্গল ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে জয়ের আশা জোরাল হয়। চলতে থাকে নাচ, গান ও উচ্ছ্বাস।
খেলা যত গড়িয়েছে, ইস্ট বেঙ্গলের দাপট ততই স্পষ্ট হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলে জয় নিশ্চিত হতেই উচ্ছ্বাস পরিণত হয় বিজয় মিছিলে। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের সুইমিংপুল সংলগ্ন এলাকা থেকে মিছিল বের করেন সমর্থকরা। কলেজ মাঠ, বাঘাযতীন পার্ক হয়ে মিছিল এগিয়ে যায়। আবির খেলায়, নাচ-গানে মেতে ওঠেন সমর্থকরা।
শিলিগুড়ি ইস্ট বেঙ্গল ফ্যান ক্লাবের অন্যতম সদস্য স্বস্তিক বিশ্বাস বলেন, মরশুমের প্রথম ডার্বিতে আমরা হেরেছিলাম। চাপ ছিল। তবে আমরা জানতাম, আমাদের ক্লাব ঘুরে দাঁড়াবেই। প্রথম ডার্বির পরাজয়ের যোগ্য জবাব এদিন ইস্ট বেঙ্গল দিয়েছে মোহনবাগানকে। তার মধ্যে আমাদের বড় প্রাপ্তি এডমন্ডের হ্যাটট্রিক। তবে তাঁর আক্ষেপ, শিল্ড জয়ের পাঁচ গোলের রেকর্ড এদিন দ্বিতীয়বার করা সম্ভব হয়নি। তাঁর কথায়, ইস্ট বেঙ্গল যেভাবে খেলেছে, তাতে আরও বড় ব্যবধানে জয় আসতে পারত। তবু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে জয় পাওয়ার আনন্দই এখন বড় প্রাপ্তি। রবিবার রাত পর্যন্ত শিলিগুড়ির বিভিন্ন প্রান্তে লাল-হলুদ উচ্ছ্বাসের রেশ দেখা যায়।