অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: গতবার কোচ অস্কার ব্রুজোঁর প্রশিক্ষণে ট্রফি জয় দিয়ে মরশুম শেষ করেছিল ইস্ট বেঙ্গল। সাফল্যের সেই ধারা আগলেই নতুন মরশুমের সূচনা মশাল বাহিনীর। রবিবার সন্ধ্যায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লাল-হলুদ গ্যালারিতে ফের জ্বলল বিজয় মশাল। ৪-১ গোলে মোহন বাগানকে হারিয়ে ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন আন্তোনিও হাবাস ব্রিগেড। ১০ মিনিটে বিপিন সিংয়ের শট জালে আছড়ে পড়তেই সেলিব্রেশন শুরু করেছিলেন বর্ষীয়ান স্প্যানিশ কোচ। ক্রমশ চওড়া হয়েছে তাঁর মুখের হাসি। ম্যাচ শেষে অনেক শান্ত দেখাল হাবাসকে। গুটি গুটি পায়ে মাঠে গিয়ে প্রথমেই তিনি জড়িয়ে ধরলেন ম্যাচের নায়ক এডমুন্ডকে। মুখে তৃপ্তির ঝলক মাখিয়ে এরপর দর্শকদের অভিবাদন জানালেন তিনি। না বলা কথায় যেন বলে গেলেন, ‘ওস্তাদের মার শেষ রাতে!’ এটা কি লিগ পর্বের ম্যাচে মোহন বাগানের কাছে হারের প্রতিশোধ? স্প্যানিশ কোচের জবাব, ‘না না, তা নয়। তবে ভারতীয় ক্লাব ফুটবলে অনেক ট্রফি জিতলেও ডুরান্ড এতদিন অধরা ছিল। আজ তাও পূর্ণ হয়ে গেল। এটাই আসল তৃপ্তি। প্রতিপক্ষের সম্মানের জন্যই ৫ গোল দিইনি।’
ডার্বির আগে অতি বড়ো লাল-হলুদ সমর্থকও কি ভেবেছিলেন, ম্যাচের ফল এমন হতে পারে? স্বয়ং হাবাসও হয়তো সেই আশা করেননি। ম্যাচের পর তাঁর বিশ্লেষণ, ‘প্রতি ম্যাচেই আমরা সুযোগ তৈরি করেছি। কিন্তু কাজে লাগাতে পারছিলাম না। আজ সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে ছেলেরা। ওদের জন্য আমি গর্বিত।’ ভারতীয় ক্লাব ফুটবলে বহু ডার্বি জিতেছেন হাবাস। রবিবারের এই জয়কে কোথায় রাখবেন তিনি। খুব বেশি না ভেবেই লাল-হলুদ কোচের জবাব, ‘এটাই আমার জেতা সেরা ডার্বি।’ উল্লেখ্য, প্রথম একাদশে এদিন কোনো বিদেশি স্ট্রাইকার না রেখেই দল নামিয়েছিলেন হাবাস। সেই প্রসঙ্গে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘এডমুন্ডকে আমি ইন্টার কাশীতে থাকার সময় থেকে চিনি। ওর উপর আস্থা ছিল। জানতাম, সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে লক্ষ্যভেদে সফল হবে। স্ট্রাইকার নিয়ে তাই ভাবিনি।’ এরপর মুচকি হেসে সংযোজন, ‘দরকার পড়লে আনোয়ারকেও স্ট্রাইকার হিসাবে খেলাতে পারতাম।’
সোমবার সকালে ক্লাবে পতাকা উত্তোলন। তবে রবিবার রাতেই দেশে ফেরার বিমান ধরলেন কোচ হাবাস। আপাতত সাতদিনের ছুটি। ১ সেপ্টেম্বর ফের শুরু অনুশীলন। এই পর্বে শহর ছাড়তে পারেন বিদেশিরা।