Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলিগুড়ি: চারণ কবির স্মৃতিবিজড়িত আনন্দময়ী মন্দিরের দুর্গাপুজোর ভোগবৈচিত্র্য অটুট

বাজার অগ্নিমূল্য। ফল, সবজি, চাল, ডাল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। তবু, চারণ কবি মুকুন্দ দাসের স্মৃতি বিজড়িত প্রাচীন আনন্দময়ী কালীবাড়ির দুর্গাপুজোর ভোগ বৈচিত্র্য অটুট।

শিলিগুড়ি: চারণ কবির স্মৃতিবিজড়িত আনন্দময়ী মন্দিরের দুর্গাপুজোর ভোগবৈচিত্র্য অটুট
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: বাজার অগ্নিমূল্য। ফল, সবজি, চাল, ডাল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। তবু, চারণ কবি মুকুন্দ দাসের স্মৃতি বিজড়িত প্রাচীন আনন্দময়ী কালীবাড়ির দুর্গাপুজোর ভোগ বৈচিত্র্য অটুট। খিচুড়ি, লাবরা থেকে পোলাও, ছোলার ডাল, ভাজা, পায়েস থেকে মিষ্টি সবই থাকছে। এবার মন্দিরের পুজো ৯৪ বর্ষে পা দেবে। আনন্দময়ী কালীবাড়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, ভক্তদের সহযোগিতায় এই আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। এই আয়োজনে কোনও রকম সমস্যা হয় না।

Advertisement

শহরের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে আনন্দময়ী কালীবাড়ির পুজো উল্লেখযোগ্য। বিগত বছরগুলির মতো এবারও এই মন্দিরের পুজোর ভোগ বৈচিত্র্য অটুট রয়েছে। মন্দির সূত্রে জানিয়েছেন, সপ্তমীতে খিচুড়ি ও লাবরা, অষ্টমীতে পোলাও, ছোলার ডাল, দু’রকম সবজি, সাত রকম ভাজা, চাটনি, পায়েস থাকছে। নবমীতে খিচুড়ি, দুই রকম সব্জি, মুগডাল, চাটনি, পায়েস প্রভৃতি মায়ের কাছে নিবেদন করা হবে। আনন্দময়ী কালীবাড়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, পুজোর ক’দিন মন্দির থেকে ভোগ বিলি করা হবে। প্রতিদিনই কয়েক হাজার ভক্ত সেই ভোগ পাবেন। এছাড়া, ৫০ টাকার কুপনের বিনিময়ে প্যাকেট করে প্রসাদ বিলি করা হয়।
ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্দিরে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মহালয়ার আগের দিন সন্ধ্যায় মন্দিরে ভক্তিমূলক অনুষ্ঠান হবে। মহালয়ার দিন সন্ধ্যায় নাচ ও গানের মধ্যদিয়ে মহিষাসুরমর্দিনী পালা দেখানো হব। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, মহালয়ার পরে আরও দু’টি এখানে ভক্তিমূলক অনুষ্ঠান হবে। স্থানীয় একটি সাংস্কৃতিক সংস্থার সহযোগিতায় এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়ছে। এছাড়া, পঞ্চমীতে মহিলার মধ্যে বিলি করা হবে শাড়ি।
শহরের মহাবীরস্থানে সংশ্লিষ্ট মন্দির অবস্থিত। প্রসঙ্গত, একদা সেখানে রেল স্টেশনের পাশেই ছিল জঙ্গল। তাতে ছিল বিপ্লবীদের ঘাঁটি। শরীর চর্চা থেকে লাঠি খেলা সবকিছুই হতো। ১৯২১ সালে এখানে কালীপুজোর সূচনা হয়। ১৯২৬ সাল নাগাদ চারণ কবি মুকুন্দদাস হাটখোলায় পালাগান করেন। সেখান থেকে সংগৃহীত অর্থের ৫০ শতাংশ মন্দির তৈরির জন্য দান করেন চারণ কবি। তিনিই মন্দিরের নামকরণ করেন-আনন্দময়ী। পরবর্তীতে কাশি থেকে কষ্টিপাথরের কালী মূর্তি এনে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন কবি। ১৯৩১ সালে এখানে সূচনা হয় দুর্গাপুজোর। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ