সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দলের নেতা-কর্মীদের ভোট পরিচালনার প্রশিক্ষণ দিতে শিলিগুড়িতে পাঁচতারা হোটেলে পাঠশালা খুলেছে বিজেপি। এজন্য বিহার থেকে একঝাঁক নেতাকে শিলিগুড়িতে আনা হয়েছে। তাঁদের রাখা হয়েছে শহরের হিলকার্ট রোডে একটি বিলাসবহুল হোটেলে। যা নিয়ে ভোটের মধ্যে গণ্ডগোলের আশঙ্কা করছে তৃণমূল কংগ্রেস।
শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের পাশাপাশি ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া-খড়িবাড়ি ও চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি নেতা-কর্মীরা কীভাবে প্রচার চালাবেন, জনসংযোগ করবেন কীভাবে সামগ্রিক ভোট প্রচার প্রভৃতি বিষয় নিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন বাইরে থেকে আসা এই নেতারা। শিলিগুড়ির ওই বিলাসবহুল হোটেলে প্রতিদিন ক্লাস নিচ্ছেন তাঁরা।
বিহার থেকে আসা এই নেতাদের পাঁচতারা হোটেলে রাখা এবং এদের পিছনে বিপুল খরচ নিয়ে দলের কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, বিহার থেকে একঝাঁক নেতাকে আনা হয়েছে। তাঁরা শুধু হোটেলে বসেই আমাদের ক্লাস নিচ্ছেন। প্রচার কৌশলের নামে যা শেখানো হচ্ছে তারসঙ্গে আমরা পরিচিত। অতীতেও আমরা এভাবে দলের পতাকা, ফেস্টুন, ব্যানার ঝোলানোর পাশাপাশি জনসংযোগের কাজ করেছি। বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার কাজও আমরা করে এসেছি। সেই কথাই আমাদের বলছেন এই বহিরাগত নেতারা। তাঁদের কাছ থেকে আমরা নতুন কিছু শিখছি না। পুরনো জিনিস শেখাতে এতজন নেতাকে এনে বিপুল খরচ করার কারণ বোঝা যাচ্ছে না।
বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, স্থানীয় কর্মীরা নির্বাচনি কার্যালয় খুলতে নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ করছেন। অনেকেই জনসংযোগে এলাকায় বাড়ি বাড়ি যাওয়ার কাজে প্রয়োজনীয় খরচটুকু চেয়েও দলের কাছ থেকে পাচ্ছেন না। সেখানে বিহার থেকে নেতাদের এনে এই বিপুল খরচ করায় তাঁরা ক্ষুব্ধ।
শুধু বিহার থেকেই নয়, আর কয়েকদিনের মধ্যে গুজরাত, অসম, রাজস্থান থেকেও একঝাঁক নেতা শিলিগুড়িতে আসবেন বলে দলের কর্মীরা জানিয়েছেন। তাঁরাও ভেবে পাচ্ছেন না কি উদ্দেশ্যে এঁদের আনা হচ্ছে। ভোট প্রশিক্ষণের নামে পাঠশালা খোলায় পিছনে অন্য কোনো অঙ্ক রয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন দলের নেতা-কর্মীদের একাংশের।
যদিও দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের (সমতল) মুখপাত্র বেদব্রত দত্ত বলেন, ভোটের আগে এলাকা অশান্ত, উত্যক্ত করার চক্রান্তে বিজেপি এসব করছে। পাঁচতারা হোটেলে নেতাদের ভোটের পাঠশালার নাম করে যা করা হচ্ছে তার পিছনে নিশ্চই অসাধু উদ্দেশ্য রয়েছে।
যদিও ভোটের পাঠশালা বা দলীয় কর্মীদের ভোটের পরিচালনার কৌশল প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি অরুণ মণ্ডল। তিনি বলেন, আমাদের দলের বিহার থেকে কিছু নেতা-কর্মী এসেছেন এখানকার ভোট কেমন হয় তা দেখতে। প্রত্যেক নির্বাচনেই বিভিন্ন রাজ্য থেকে নেতারা এখানে ভোট দেখতে আসেন।