Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযান বন্ধে অমিত শাহকে চিঠি সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর, আইন লঙ্ঘন ও ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাতের অভিযোগ

কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযান বন্ধে অমিত শাহকে চিঠি সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর, আইন লঙ্ঘন ও ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাতের অভিযোগ
  • ৩১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ অভিযান বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিলেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং। বিষয়টি নিয়ে নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার আবেদনও করেছেন তিনি। ভারত-নেপাল সীমান্তে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮,৫৮৬ মিটার)। এই শৃঙ্গে সিকিমের দিক থেকে আরোহণ করা যায় না। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি একটি পবিত্র স্থান। তাই এখানে অভিযান চালানো ভারতের দিক থেকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তাই যাঁরা কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ অভিযানে যান, তাঁরা নেপালের দিক থেকে যাত্রা করেন। এই অবস্থায় পর্বতারোহণের 

Advertisement

চলতি মরশুমে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস (এনআইএমএএস)-এর একটি দল নেপালের দিক দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ জয় করে। বিতর্কের সূত্রপাত সেখানেই। সূত্রের খবর, অরুণাচল প্রদেশের দিরাংয়ে অবস্থিত পর্বতারোহণের সরকারি প্রতিষ্ঠানটি ‘হর শিখর তিরঙ্গা’ শীর্ষক একটি কর্মসূচি নিয়েছিল। কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ জয়ের মাধ্যমে সফলভাবে শেষ হয় 
তাঁদের এই কর্মসূচি। এরপরেই সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি লিখে কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযান বন্ধ করতে চেয়ে যেভাবে 
সোচ্চার হয়েছেন, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। কারণ, ইতিমধ্যে সিকিমবাসীর একাংশও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, তাঁদের বিশ্বাসকে গুরুত্ব দিয়ে যে দেশ আইন এনেছে, সেই দেশেরই সরকারি সংস্থা বা কোনও নাগরিক কীভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানের অনুমতি পায়? 
কিন্তু কেন সিকিমের এই আপত্তি? চিঠিতে প্রেম সিং তামাং লিখেছেন, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘায় আরোহণ একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘন এবং সিকিমের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভাবাবেগের পরিপন্থী। সিকিমবাসীর কাছে কাঞ্চনজঙ্ঘার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অপরিসীম। বৌদ্ধধর্ম প্রচারক গুরু রিনপোচে তথা গুরু পদ্মসম্ভব এই পথ ধরেই অগ্রসর হয়েছিলেন। কাঞ্চনজঙ্ঘাকে সিকিমের প্রধান দেবতার আবাসভূমি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন তিনি। …এই বিশ্বাসের কারণেই সিকিম সরকার কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযান পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে স্যাকরেড প্লেসেস অব ওয়ারশিপ (স্পেশ্যাল প্রভিশনস) অ্যাক্ট, ১৯৯১-এর আওতায়।’ তাই নেপালের দিক থেকেও যাতে কেউ কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযান না করেন, তা নিশ্চিত করতে সেই দেশের সরকারের সঙ্গে কথা বলার জন্য অমিত শাহর কাছে আবেদন রেখেছেন তিনি। যদিও পর্বতারোহণ সংস্থাটির তরফে জানানো হয়েছে, নেপালের দিক থেকে কোনও বাধা না থাকায় সেদিক দিয়েই অভিযান হয়েছে। পরিচিত পথ ধরেই শৃঙ্গে পৌঁছেছেন পাঁচ পর্বতারোহী। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাসে আঘাত লাগবে, এমন কোনও কাজ করা হয়নি। নেপালের যেসব সংস্থা কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানের আয়োজন করে, তারাও এই খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। 
বিশিষ্ট পর্বতারোহী তথা এভারেস্টজয়ী বসন্ত সিংহরায় ২০১১ সালে নেপালের দিক দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা জয় করেন। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত উদ্যোগে যাওয়া আর সরকারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে যাওয়ার মধ্যে ফারাক আছে। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী যদি তাঁর রাজ্যের মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের কথা ভেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই আবেদন করেন, অবশ্যই তা ভেবে দেখা উচিত।’ রাজ্যের আরেক এভারেস্টজয়ী তথা ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফাউন্ডেশন-ইস্ট জোনের চেয়ারম্যান দেবরাজ দত্ত বলেন, ‘পর্বতারোহী হিসেবে চাইব, প্রত্যেকটা পিক খোলা থাকুক অভিযানের জন্য। তবে স্থানীয় মানুষের ভাবাবেগ অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ