Bartaman Logo
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডুয়ার্সে চায়ের মরশুমি ক্যালেন্ডারে এবার বদলের ছাপ! প্রভাব ফেলছে আবহাওয়া

চায়ের মরশুমি ক্যালেন্ডারেই বদলের ছাপ স্পষ্ট। ফার্স্ট ফ্লাশ, সেকেন্ড ফ্লাশ, রেইন ফ্লাশ এবং অটাম ফ্লাশ, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে আসা এই চার পর্যায়ের স্বাভাবিক সময়সূচি আর আগের মতো থাকছে না ডুয়ার্সের বাগানগুলিতে।

ডুয়ার্সে চায়ের মরশুমি ক্যালেন্ডারে এবার বদলের ছাপ! প্রভাব ফেলছে আবহাওয়া
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

উজ্জ্বল রায়, ধূপগুড়ি: চায়ের মরশুমি ক্যালেন্ডারেই বদলের ছাপ স্পষ্ট। ফার্স্ট ফ্লাশ, সেকেন্ড ফ্লাশ, রেইন ফ্লাশ এবং অটাম ফ্লাশ, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে আসা এই চার পর্যায়ের স্বাভাবিক সময়সূচি আর আগের মতো থাকছে না ডুয়ার্সের বাগানগুলিতে। তার সঙ্গে বদলাচ্ছে চা গাছের কুঁড়ি গঠনের সময়ও। চা গাছের বৃদ্ধি ও কুঁড়ি গঠনের সঙ্গে তাপমাত্রা এবং বাতাসের আর্দ্রতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় বিশেষ করে রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি গাছের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলছে বলে চা গবেষকদের মত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণে সিকিম ও সংলগ্ন এলাকায় সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার দেশের মধ্যে বেশি, প্রায় ০.০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাতের উষ্ণতা এবং আর্দ্রতার তারতম্য কুঁড়ি গঠনের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলছে বলে গবেষকদের মত। ডুয়ার্সেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

Advertisement

এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে ফ্লাশের সময় নির্ধারণে। কখন নতুন পাতা ও কুঁড়ি আসবে, কখন তা সংগ্রহের উপযুক্ত হবে এবং কোন সময়ে ছাঁটাই করা দরকার, আগের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে করা হিসাব সব সময় মিলছে না। ফলে শ্রমিকদের কাজের পরিকল্পনা থেকে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, সব ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বৃষ্টির ধরনেও পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জল দ্রুত বাগান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, ফলে মাটিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকছে না। আবার দীর্ঘ অনাবৃষ্টিতে চা গাছের বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম সেচের প্রয়োজন হচ্ছে। পাহাড় এবং ডুয়ার্স তরাইয়ের ঢেউ খেলানো জমিতে মাটি ক্ষয় ও জল নিকাশির সমস্যাও বাড়ছে।
পাশাপাশি চা গাছে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
বানারহাটের একটি চা বাগানের ম্যানেজার কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট, ফিউসেরিয়াম ডাইব্যাক, গ্রে ব্লাইট, ব্রাউন ব্লাইট এবং রেড রাস্টের মতো রোগ দেখা যাচ্ছে। অতীতে এসব রোগ ঘন ঘন দেখা যেত না। ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণে বাগানের খরচও বাড়ছে। চা গবেষক দীপ সিনহা বলেন, বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতি চা শিল্পের অনুকূলে নয়। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, পর্যাপ্ত ছায়ার জন্য ছায়াগাছের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাগানের পশ্চিম সীমানায় বায়ু প্রতিরোধী বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন। আধুনিক সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি কীটপতঙ্গ ও রোগ নিয়ন্ত্রণে অনুমোদিত রাসায়নিকের সঠিক ব্যবহারেও সতর্ক থাকতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ