Bartaman Logo
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোলপুরে টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের গাড়ি থেকে বিদেশি মুদ্রা সহ প্রচুর টাকা উদ্ধার

পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের সিন্ডিকেটের শিকড়ের খোঁজে তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই সামনে আসছে ঘনিষ্ঠদের নাম।

বোলপুরে টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের গাড়ি থেকে বিদেশি মুদ্রা সহ প্রচুর টাকা উদ্ধার
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের সিন্ডিকেটের শিকড়ের খোঁজে তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই সামনে আসছে ঘনিষ্ঠদের নাম। সোমবার দুপুরে বোলপুর থানার মহিদাপুর এলাকায় একটি দামি গাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। গাড়ির ভিতরে থাকা একটি ট্রলিব্যাগ থেকে প্রচুর টাকা পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি থাইল্যান্ড সহ তিনটি দেশের মুদ্রাও উদ্ধার হয়েছে।  ওই গাড়িতে ছিলেন টুলুর শ্যালক সামসুল আলম ওরফে মিন্টুর ম্যানেজার নয়ন শেখ, মিন্টুর শ্যালক শেখ শান্ত ও গাড়ির চালক। এদিন ঘটনাস্থল থেকেই তিনজনকে আটক করা হয়। গাড়িটি সিউড়ি থেকে বর্ধমান হয়ে কলকাতা বা অন্য কোনও জেলার দিকে যাচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিশের। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ গাড়িটি ধরে। গাড়ি থেকে মিন্টুর পাসপোর্ট মিলেছে বলে সূত্রের খবর। গোপনে বিদেশে পালানোর ছক ছিল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Advertisement

এদিনই মহিদাপুরে মিন্টুর শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি চালায় জেলা পুলিশের একটি টিম। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তল্লাশি চলে। তবে রাত পর্যন্ত কী উদ্ধার হয়েছে, তা পুলিশ জানায়নি। এদিকে টুলুর শ্যালক সামসুল আলম ওরফে মিন্টু দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, মহিদাপুরের শ্বশুরবাড়িতে কিছুদিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। পরে গাড়িতে করে অন্যত্র পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে পুলিশ গাড়িটি ধরার সময় মিন্টুকে পাওয়া যায়নি।
এদিন বিকেল থেকে পাড়ুইয়ে টুলু মণ্ডলের শ্বশুরবাড়িতেও ফের তল্লাশি চালায় জেলা পুলিশ ও এসটিএফের একটি দল। মূলত মিন্টুর খোঁজেই এই অভিযান বলে সূত্রের খবর। মহিদাপুরে গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদ টাকা ও বিদেশি মুদ্রার সূত্র ধরেও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। কোথা থেকে ওই টাকা এল, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং কেন এত নগদ টাকা ও বিদেশি মুদ্রা গাড়িতে রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাড়িতে থাকা তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই টাকার সঙ্গে টুলু মণ্ডলের পাথরের কারবারের লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে ধৃতদের সঙ্গে টুলুর যোগাযোগ কতদিনের, কীভাবে টাকা লেনদেন হত এবং এই ব্যবসার সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে। টুলুর নেটওয়ার্কের হদিশ পেতেই তদন্ত আরও জোরদার করেছে পুলিশ। এদিন ওই গাড়ি থেকে টুলুর শ্যালকের পাসপোর্টও পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। মিন্টুর বিদেশে পলানোর ছক ছিল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। তদন্ত চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ