নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন। আর সেদিনই দমদমে সিগন্যাল বিভ্রাটের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হল বারাসত লাইনের ট্রেনযাত্রীদের। সকাল থেকে আপ লাইনে সমস্যা শুরু হয়। দুপুরের দিকে সমস্যা দেখা দেয় ডাউন লাইনেও। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের হাসনাবাদ-শিয়ালদহ লোকাল সোমবার বিরাটি স্টেশনে আসে ১২টা ১৫ মিনিটের পর। বিরাটি থেকে দমদম ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত ট্রেনটির আসতে কোনও সমস্যা হয়নি। গোল বাধে দমদম জংশনে ঢোকার মুখে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকে ট্রেনটি। দীর্ঘ অপেক্ষায় রীতিমতো ধৈর্যচ্যুতি ঘটে বহু যাত্রীর। অন্য কোনও উপায় না পেয়ে অনেকে লোকাল থেকে নেমে রেললাইন ধরেই দমদম স্টেশনের দিকে এগতে থাকেন। সেই ট্রেন ছাড়তে ছাড়তে বেজে যায় ১ টা ২৩ মিনিট। তখনও লাইন ধরে হেঁটে চলেছেন শ’য়ে শ’য়ে যাত্রী। কারণ, পিছনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে আরও একাধিক লোকাল। বনগাঁ, বারাসত কিংবা হাসনাবাদ লাইনের যাত্রীদের দিনের ব্যস্ত সময়ে এভাবেই নাকাল হতে হয়।
রেল জানিয়েছে, দমদমের ৩ নম্বর (আপ) লাইনে সিগন্যালে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সকাল ৬টা বেজে ১০ মিনিট থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এই সমস্যা ছিল। এর ফলে দমদম-বনগাঁ লাইনে পরপর ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে। রেলের দাবি, সমস্যা হলেও তার জন্য কোনও লোকাল বাতিল করতে হয়নি। তবে দেরিতে চলেছে অনেক ট্রেন। সিগন্যাল বিভ্রাট হওয়ায় পেপার (ম্যানুয়াল) সিগন্যালের মাধ্যমে ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা হয়। সাড়ে তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে দাবি রেলের। তবে এর প্রভাব প্রায় দিনভর নিত্যযাত্রীদের টের পেতে হয়েছে। কারণ, পরপর বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকালগুলি অনেক দেরি করেছে। ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের। তবে ডাউন লাইনে কোনও সমস্যার কথা স্বীকার করেনি রেল।
বারাসত লাইনের নিত্যযাত্রী তথা দত্তপুকুরের বাসিন্দা শেখর ভদ্র বলেন, ‘দমদমে ঢোকার আগে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকল ট্রেন। বহু মানুষ ততক্ষণে রেললাইনে নেমে পড়ছেন। শুনলাম, ট্রেনের চালক নাকি বলেছেন, সিগন্যাল কাজ করছে না। আমাদের পিছনে আরও অনেক ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে।’ বারাসতের বাসিন্দা অমর চক্রবর্তী বলেন, ‘সকাল থেকেই তো এমন পরিস্থিতি হয়ে রয়েছে। অথচ, কোনও স্টেশনেই অপেক্ষারত যাত্রীদের সেকথা জানানো হয়নি। যে যার মতো নেমে হেঁটে চলে গিয়েছেন বা অন্য কোনও উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছনোর চেষ্টা করেছেন। যাঁদের বয়স বেশি বা মহিলা যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ট্রেনের মধ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রেলের বিরুদ্ধে।’