Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাইবার প্রতারণার নয়া ফাঁদে ব্যবসায়ী, সতর্ক থাকার পরামর্শ! ওটিপি জেনে অ্যাকাউন্ট সাফ 

সাইবার প্রতারণার নয়া ফাঁদে ব্যবসায়ী, সতর্ক থাকার পরামর্শ! ওটিপি জেনে অ্যাকাউন্ট সাফ 
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘স্যার, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত কোনও তথ্য‌ কাউকে দেবেন না। অজানা নম্বর থেকে আসা লিঙ্কেও ক্লিক করবেন না। ওটিপি শেয়ার করলে বিপদ হতে পারে’। ফোনের ওপার থেকে ভারী গলায় এমন কন্ঠস্বর পেয়ে মেমারির সাতগেছিয়ার ব্যবসায়ী নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন, ব্যাঙ্কের আধিকারিকই তাঁকে ফোন করেছেন। তাই তিনি কথা এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত আরও নানা পরামর্শ ওপার থেকে আসতে থাকে। এরপর সেই ‘ব্যাঙ্ককর্তা’ বলতে থাকে, আপনার তো কেওয়াইসি আপডেট করা নেই। আপনাকে একটা নম্বর পাঠিয়েছি। সেটা আপনি বলুন। ওই নম্বরটি পেলে আপনার কেওয়াইসি আপডেট হয়ে যাবে। প্রয়োজনে আপনি ব্যাঙ্কে আসতে পারেন। ভরসা তৈরি হওয়ায় মহাদেব দাস নামে ওই ব্যবসায়ী সেই নম্বর জানিয়ে দেন। এরপরই ধাপে ধাপে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে সাত লক্ষ ৩২হাজার টাকা লোপাট হয়ে যায়। তিনি মেমারি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। 
Advertisement
মহাদেববাবু বলেন, ওটিপি শেয়ার করলে প্রতারকরা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেয়। সেটা আগেই জানতাম। কিন্তু ফোনে কথা শুনে ওই ব্যক্তিকে প্রতারক বলে প্রথমে মনে হয়নি। ও অ্যাকাউন্ট ‘সেফ’ রাখার জন্য পরামর্শ দেয়। কিন্তু কথার ছলে ও ওটিপি জেনে অ্যাকাউন্ট সাফ করে দেবে এমনটা বুঝতে পারিনি। ওটিপি শেয়ার করার পর প্রতারক প্রথমে অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০হাজার টাকা কেটে নেয়। পরে দু’বার ২০ হাজার টাকা তুলে নেয়। মোট ছ’বারে ও সাত লক্ষ ৩২ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মহাদেববাবু ধান কেনাবেচার ব্যবসা করেন। তাঁর সেভিংস অ্যাকাউন্টে সাত লক্ষ ৩২হাজার টাকা জমা ছিল। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে ধান বিক্রির টাকা ওই অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ব্যবসার প্রয়োজনে সেভিংস অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা রাখতে হয়। ২৬ডিসেম্বর প্রতারক ব্যাঙ্ককর্তার পরিচয় দিয়ে ফোন করে। সেদিনই একটি কাজে ব্যাঙ্কে যাওয়ার কথা ছিল। সেটা ওই প্রতারককে জানান। সে বলে, ‘ব্যাঙ্কে আরও অনেক কাজ রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে কেওয়াইসি আপডেট নাও হতে পারে। আপনি মেসেজে আসা নম্বরটি শেয়ার করে দিন। তারপর আপনি ব্যাঙ্কে এসে দেখবেন আপনার কেওয়াইসি আপডেট হয়েছে কিনা।’ তার কথা বিশ্বাস করে ঠকলাম। 
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, ব্যাঙ্ক কখনোই ফোন করে তথ্য চায় না। সেটা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ফোন করে গ্রাহকদের জানাচ্ছে। পুলিসের পক্ষ থেকেও লাগাতার প্রচার করা হচ্ছে। সবকিছু জানার পরও ওটিপি শেয়ার করে অনেকেই নিজের বিপদ ডেকে আনছেন। টাকা হাতানোর জন্য এখন প্রতারকরা নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে। জনগণগকে আরও সচেতন হতে হবে। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, সাইবার প্রতারণা বন্ধ করতে লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছে। কখনোই কাউকে ফোনে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা উচিত নয়।
সম্পর্কিত সংবাদ