Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্যুটিংয়ের নামে টিভি, ওয়াশিং মেশিন নিয়ে পালানো যুবক ধৃত

শ্যুটিংয়ের নামে টিভি, ওয়াশিং মেশিন নিয়ে পালানো যুবক ধৃত
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বিজ্ঞাপনী শ্যুটিংয়ের জন্য দরকার ওয়াশিং মেশিন, টিভি, স্মার্ট টিভি প্রভৃতি। এমনটাই বলা হয়েছিল তমলুকের একটি বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের দোকানের মালিককে। সেই শ্যুটিংয়ে মডেলিংয়ের জন্য বেহালা থেকে সাত যুবক-যুবতীকেও নিয়ে আসা হয়েছিল। সব দেখেশুনে দোকানমালিক কাজী সিরাজুল ইসলাম ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি, পুরোটাই একটা প্রতারণার ফাঁদ। কাজের খোঁজে আসা সাত নিরীহ যুবক-যুবতীকে তাঁর দোকানে ফেলে নানা বৈদ্যুতিন সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল প্রতারক। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রাজু রাউলকে তমলুক থানার পুলিস অবশেষে গ্রেপ্তার করল।
Advertisement
ধৃতের বাড়ি তমলুক থানার শ্রীরামপুরে। তার কাছ থেকে খোয়া যাওয়া বৈদ্যুতিন সামগ্রীও পুলিস উদ্ধার করেছে। শুক্রবার রাতেই তমলুক থানার একটি টিম রাজুকে গ্রেপ্তার করতে খড়্গপুরে রওনা দিয়েছিল। তবে ভোরে অভিযুক্ত খড়্গপুর থেকে শ্রীরামপুরে বাড়িতে ফেরে। সেখান থেকেই তাকে পাকড়াও করা হয়। তমলুক থানার আ‌ই঩সি সুভাষচন্দ্র ঘোষ বলেন, আমরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি। তাকে নিয়ে টিআই প্যারেড হবে।
তমলুক শহরে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পদুমবসানে সিরাজুল ইসলামের বৈদ্যুতিন সামগ্রীর দোকান রয়েছে। ১৮ নভেম্বর থেকে রাজু সিরাজুল সাহেবের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখছিল। তাঁকে জানিয়েছিল, শহরের বৈকুণ্ঠ সরোবর লাগোয়া একটি গেস্টহাউসে শ্যুটিংয়ের জন্য পাঁচটি ফ্রিজ, একটি ওয়াশিং মেশিন, দু’টি ফ্যান ও একটি এলইডি টিভি লাগবে। মোটা অঙ্কের বরাত ভেবে সিরাজুল সাহেব বিভিন্ন দোকান থেকে সেসব সামগ্রী জোগাড় করে রাখেন।
২২ নভেম্বর প্রতারণার ঘটনাটি ঘটে। সেদিন রাজু তিন যুবক ও চার যুবতীকে নিয়ে সিরাজুলের দোকানে পৌঁছে যায়। ওই যুবক-যুবতীরা দোকানে ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন ও ঩টিভি পছন্দ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। রাজু গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়ার নাম করে একটি টিভি, একটি ওয়াশিং মেশিন ও দু’টি ফ্যান টোটোয় চাপিয়ে রওনা দেয়। বাকি সাতজন তখন দোকানে বসে। কথা ছিল, ওই টোটো ঘুরে এসে বাকি জিনিসপত্র নিয়ে যাবে। তখনই রাজু টাকা দেবে। কিন্তু টোটোয় সামগ্রী তুলে দোকান ছাড়ার পর থেকেই রাজু বেপাত্তা হয়ে যায়। তার দু’টি মোবাইলও বন্ধ ছিল। এরপর দোকানমালিক পুলিসে খবর দেন। ওই সাত যুবক-যুবতীকেও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, রাজু রাউল বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম হাতানোর লক্ষ্যেই এই প্লট সাজিয়েছিল। সদ্য মডেলিংয়ের পেশায় আসা বেহালার ওই যুবক-যুবতীদের নামী স্বর্ণবিপণি সংস্থার জন্য মডেলিংয়ের টোপ দিয়েছিল। তাঁদের গেস্ট হাউসে থাকার ২৫হাজার টাকা বিলও সে মেটায়নি। এই অভিনব প্রতারণার ঘটনায় পুলিসও আশ্চর্য হয়ে গিয়েছে।
পুলিস জানিয়েছে, ধৃত যুবক টোটোয় ওইসব সামগ্রী তুলে নিমতৌড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে অন্য একটি টোটোয় ওইসব সামগ্রী তুলে সোজা বাড়িতে নিয়ে যায়।
অভিযোগকারী কাজি সিরাজুল ইসলাম বলেন, যুবক-যুবতীদের দোকানে বসিয়ে চারটি জিনিস টোটোয় তুলে ভ্যানিশ! এভাবে কেউ প্রতারণা করতে পারে ভাবতেও পারিনি।
 
সম্পর্কিত সংবাদ