সংবাদদাতা, ঘাটাল: স্ত্রী সন্তানকে ফেলে শ্যালকের স্ত্রীকে ফুঁসলে নিয়ে গিয়ে সংসার পেতেছিলেন। সেই ‘স্ত্রী’-ই ১৫ বছর পর কন্যা সহ ফের নতুন প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যেতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন দাসপুর থানার আদমপুরের রাজকুমার দাস। ‘স্ত্রী’ ও কন্যাকে ফিরে পেতে পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজকুমার। পুলিস জানিয়েছে, রাজকুমার নিজের স্ত্রীকে ফেলে শ্যালকের স্ত্রী তাপসী দাসকে নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। কিছু দিন আগে তাপসী ও তার মেয়ে পালিয়ে গিয়েছে বলে একটি অভিযোগ এসেছে। পুলিস ঘটনার তদন্ত করছে। রাজকুমারের বয়স পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই। পেশায় ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি। ২০-২১ বছর বয়সে তিনি দেখাশোনা করে ওই থানারই চাঁইপাটের বাসিন্দা কাজলী দাসকে বিয়ে করেন। কাজলী-রাজকুমারের তিনটি মেয়ে এবং একটি ছেলে রয়েছে। বছর ষোলো আগে কাজলীর ভাইয়ের বিয়ে হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই রাজকুমার শ্যালকের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। শুধু তাই নয়, শ্যালকের বিয়ের ছ’মাসের মধ্যেই তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান। বিষয়টি রাজকুমারের স্ত্রী সন্তানরা মেনে নিতে পারেননি। ফলে বাধ্য হয়েই রাজকুমার শ্যালকের স্ত্রীকে কখনও দাসপুর গঞ্জে, কখনও বা সোনাখালি গঞ্জে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। রাজকুমার-তাপসীর একটি কন্যা সন্তানও হয়। সে বর্তমানে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। রাজকুমারের দাবি, তিনি তাপসীকে যথাযোগ্য মর্যাদায় নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে আদালতে হলফনামা দিয়ে বিয়ে করেছেন। তাপসীও তাঁর বৈধ স্ত্রী। এই ভাবেই তাদের ‘সুখের সংসার’ চলছিল। রাজকুমার বলেন, আমার প্রথম স্ত্রী বিষয়টা মেনে নেয়নি। শ্যালকের স্ত্রীকে বিয়ে করার ফলে আমি প্রথম শ্বশুরবাড়িতেও যেতে পারতাম না। এখন সব ঠিক হয়ে গিয়েছে। প্রথম স্ত্রীর তিন মেয়ের বিয়ে রাজকুমারই দিয়েছেন। ছেলে তাঁর সঙ্গেই ইলেক্ট্রিকের কাজ করে। কিন্তু দুই স্ত্রীকে একই ছাদের তলায় রাখা সম্ভব হয়নি। তাই দুজনকে আলাদা আলাদা রাখা হয়েছিল। দ্বিতীয় স্ত্রী পাশের গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে পালিয়েছেন। সঙ্গে মেয়েকেও নিয়ে গিয়েছেন। রাজকুমার বলেন, আমি দুই জাগয়ায় দুই স্ত্রীকে রেখে বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছিলাম। এখন সব ওলটপালট হয়ে গেল।



