নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ছোট শ্যালককে অপহরণ। তারপর বেহুঁশ করে হোটেলে বন্দি রেখে মুক্তিপণ চেয়ে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু, নিজের স্বামী ভাইকে অপহরণ করবে কল্পনাও করতে পারছিলেন না স্ত্রী। ভিডিও পাঠিয়ে সেই সন্দেহও দূর করা হয়। চাওয়া হয় সোনা ও টাকা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর দেওয়া হয় থানায়। বাড়ির লোকজনও বহরমপুর থানার বদরপুর সারদাপল্লি এলাকায় হানা দেয়। সেখানে ‘গুণধর’ জামাইকে মারধর করে পোস্টের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পুলিস তাকে আটক করে। পাশাপাশি অপহৃত দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রকে উদ্ধার করা হয়। তাকে অচৈতন্য অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গুণধর জামাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের নাম নকুল গোয়েল। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অপহৃত নাবালকের দিদি কৃষ্ণা ঠাকুরের ছ’মাস আগে বিয়ে হয়েছিল আগ্রার বাসিন্দা নকুলের সঙ্গে। বিয়ের পর নকুল সারদাপল্লিতে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে শুরু করে। এখানে সে কাপড়ের ব্যবসাও শুরু করে। কিন্তু, ব্যবসা মন্দা চলায় মাস খানেক আগে নকুল আগ্রা ফিরে যায়। আচমকা এদিন সকাল ৮টা নাগাদ নকুল তার স্ত্রীকে ফোন করে। সে জানায়, বাড়িতে অনলাইনে খাবার অর্ডার করেছে। পরে দুপুর ১২টা নাগাদ নকুল ফের ফোন করে তার স্ত্রীকে জানায়, ডেলিভারি বয় খাবার নিয়ে পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। কৃষ্ণা তখন তাড়াতাড়ি করে নিজের ছোট ভাইকে খাবার আনতে পাঠান। কিন্তু, খাবার নিতে যাওয়ার পর থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্র আর বাড়ি ফেরেনি। দীর্ঘক্ষণ তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। এরইমধ্যে নকুল তার স্ত্রীকে ফোন করে জানায়, আদিত্য তার হেফাজতে রয়েছে। তাকে অপহরণ করা হয়েছে। নিজের ভাইকে কিডন্যাপ করেছে বর! কিছুতেই বিশ্বাস হয়নি কৃষ্ণার। তখন নকুল প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও কৃষ্ণার মোবাইলে পাঠায়। সেই সঙ্গে মুক্তিপণ হিসেবে সোনা ও টাকাপয়সা দাবি করে। বহরমপুর লাগোয়া চুঁয়াপুর এলাকায় দেখা করে সেই মুক্তিপণ দেওয়ার কথা জানায় নকুল। বরের কথামতো কৃষ্ণা সেখানে দেখা করতে এলে তার সঙ্গে আত্মীয় পরিজন গিয়ে নকুলকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। জামাইকে পোস্টের সঙ্গে বেঁধে রাখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কিন্তু, অভিযুক্ত তখনও জানায়নি অপহৃত শ্যালককে সে কোথায় অপহরণ করে রেখেছে। এরপর তাকে উত্তমমধ্যম দিলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিস এসে তাকে চেপে ধরতেই জানায়, হোটেলের একটি ঘরে সে শ্যালককে বেহুঁশ করে রেখেছে। সেখান থেকে নাবালককে উদ্ধার করে পুলিস। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। বহরমপুর থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, কিডন্যাপিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুক্রবার অভিযুক্তকে বহরমপুর আদালতে তুলে আমরা হেফাজতে নেব।
অপহৃত কিশোরের এক দাদা সুমন্ত মণ্ডল বলেন, ছোট ভাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না শুনে আমরা সবাই চারিদিকে খোঁজ করছিলাম। এমন সময় আমার বোনের ফোনে ভিডিও করে পাঠায় নকুল। কিডন্যাপ করা হয়েছে বলে জানিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। পুলিস ওকে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা ওর কঠোর শাস্তি চাই। ভাই এখন হাসপাতালে ভর্তি আছে। ওর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
অপহৃত কিশোরের এক দাদা সুমন্ত মণ্ডল বলেন, ছোট ভাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না শুনে আমরা সবাই চারিদিকে খোঁজ করছিলাম। এমন সময় আমার বোনের ফোনে ভিডিও করে পাঠায় নকুল। কিডন্যাপ করা হয়েছে বলে জানিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। পুলিস ওকে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা ওর কঠোর শাস্তি চাই। ভাই এখন হাসপাতালে ভর্তি আছে। ওর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।



