শ্রীকান্ত পড়্যা, চণ্ডীপুর: আমি ওদের এমন সাজা দেব, তা নজির হয়ে থাকবে। খুন হয়ে যাওয়া আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার এমনটাই জানিয়েছেন চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ।
শ্রীকান্ত পড়্যা, চণ্ডীপুর: আমি ওদের এমন সাজা দেব, তা নজির হয়ে থাকবে। খুন হয়ে যাওয়া আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার এমনটাই জানিয়েছেন চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ।
এদিন চণ্ডীপুরের কুলুপ গ্রামের বাড়িতে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ছিল চন্দ্রনাথের। সন্ধ্যায় সেখানে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে চন্দ্রনাথের ছবিতে মাল্যদান করেন তিনি। পরে ঘরে ঢুকে প্রায় আধঘণ্টা কথা বলেন হাসিরানিদেবীর সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন চণ্ডীপুর বিধানসভার বিধায়ক পীযূষকান্তি দাস। কথা বলার ফাঁকে বাড়ির ভিতর পুলিশ সুপার অংশুমান সাহাকে ডেকে নেন মুখ্যমন্ত্রী। আধ ঘণ্টা কথা বলার পর বেরিয়ে যান তিনি। যাওয়ার আগে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন হাসিরানিদেবী ও তাঁর ছোট ছেলে সৌমেন। হাসিরানিদেবী বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমার ছেলের খুনিদের চরম সাজা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কোনো অবস্থাতেই অপরাধীরা ছাড়া পাবে না বলে তিনি আমাদের কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বলেছেন, দোষীদের এমন শাস্তি দেব, তা নজির হয়ে থাকবে। সেইসঙ্গে আমাদের পরিবারের পাশে সবসময় থাকার অঙ্গীকার করেছেন। আমাকে একজন রক্ষী দেওয়ার কথাও বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। ছেলের খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চলছে। সেই তদন্তেও অগ্রগতি হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন।’
রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫মিনিট নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় চণ্ডীপুরের বাবুইয়া গ্রাম পর্যন্ত যায়। সেখানে গাড়ি বদল করে সরু ঢালাই রাস্তায় কুলুপ গ্রামে পৌঁছন শুভেন্দু। বিকাল থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) অগ্নিশ্বর চৌধুরী, তমলুকের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভদীপ ঘোষ বাহিনী নিয়ে চন্দ্রনাথের বাড়িতে ছিলেন। ছিল আধা সেনাও। মুখ্যমন্ত্রী যাওয়ার আগে পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা চন্দ্রনাথের বাড়িতে যান। মুখ্যমন্ত্রী যাওয়ার সময় বিজেপির বহু কর্মী হাজির ছিলেন। তাঁরা ভারত মাতা কি জয় স্লোগান দিতে থাকেন। বাড়ির সামনে সাদা কাপড় দিয়ে প্যান্ডেল বাঁধা ছিল। হরি মন্দিরের সামনে সাদাফুল ও ফুলের মালায় বেদি করে সেখানে চন্দ্রনাথের ছবি রাখা ছিল। শুভেন্দু মালা দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারপর বাড়ির ভিতর গিয়ে হাসিরানিদেবীর সঙ্গে কথা বলেন।
গত ৬ মে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ। ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে, কুলুপ গ্রামে চন্দ্রনাথের ছেলেবেলার সঙ্গীসাথীরা কিছুতেই খুনের ঘটনাটি মেনে নিতে পারছেন না। বিশেষ করে রাজ্যের পরিবর্তনের মুহূর্তে এমন ঘটনায় সকলেই বাকরুদ্ধ। দোষীদের চরম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরাও। এদিন আশপাশের এলাকা থেকে অনেকেই চন্দ্রনাথের বাড়ির সামনে ভিড় করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চন্দ্রনাথের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে উপস্থিত সকলেই।